• শিরোনাম



    UTTARA UNITED COLLEGE

    #UUC_2020

    Posted by Uttara United College on Friday, 29 May 2020

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ফরিদপুর নয়, গোপালগঞ্জকে বিভাগ হিসেবে দেখতে চান গোপালগঞ্জবাসী

    বিশেষ প্রতিবেদক | ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৯:১৮ অপরাহ্ণ

    ফরিদপুর নয়, গোপালগঞ্জকে বিভাগ হিসেবে দেখতে চান গোপালগঞ্জবাসী

    ফরিদপুর বা পদ্মা বিভাগ নয় গোপালগঞ্জ বিভাগ হিসেবে দেখতে চাই গোপালগঞ্জবাসী। সোমাবার এ ব্যাপারে ফেসবুকে অনেকে তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। অনেকে ফরিদপুর বিভাগের অধিনে না গিয়ে গোপালগঞ্জকে ঢাকা বিভাগের অংশ হিসেবে রাখার জন্যও তাদের যুক্তি তুলে ধরেছেন।


    ফেসবুকে একজন লিখেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরে গোপালগঞ্জের হাল ধরার মতো কে আছে জানিনা এবং পরবর্তীতে যিনি আসবেন কিংবা আসতে কতটুকু কাঠখড় পোড়াতে হবে তাও জানি না। গোপালগঞ্জের মানুষ বিরাট এক সুযোগ হারালো। যে সুযোগ শত বছরেও আসবে কিনা এ প্রশ্ন আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করছি।
    প্রশ্নটি আর কাউকে করার মতো সাহস আমার নেই।”


    তামিম নামে একজন লিখেছেন, বিভাগ পদ্মা বা ফরিদপুর নয়, বিভাগ চাই গোপালগঞ্জ নামে।

    গোপালগঞ্জকে বিভাগ করার পেছনে যুক্তি হিসেবে আমরা মনে করি, এ মাটিতে জন্ম নিয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গোপালগঞ্জের মাটিতেই শায়িত আছেন এই জাতির প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ। যার দিকনির্দেশনায় মুক্তি সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাঙালী জাতির মাতৃভাষা ভিত্তিক আত্ম-পরিচয়ের স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ অর্জন করে। ‘বাংলাদেশ’ নামে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় ‘গোপালগঞ্জ’ চির ভাস্বর একটি নাম।

    ভৌগোলিক কারণে গোপালগঞ্জ দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের কেন্দ্র বিন্দুতে অবস্থিত। গোপালগঞ্জ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই রয়েছে খুলনা মহানগর, মংলা বন্দর, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলা। এক ঘণ্টারও কম সময়েই এসব স্থানে পৌঁছানো যায় উন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে। রাজবাড়ীর কালুখালী থেকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিপাড়া পর্যন্ত নতুন রেল লাইন স্থাপন করা হয়েছে। এ লাইনে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। কাশিয়ানী থেকে গোপালগঞ্জ সদর হয়ে টুঙ্গীপাড়া পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণের জন্য আরো একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মাসেতু নির্মাণ শেষ হলে এ জেলার সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলার রেল যোগাযোগ চালু হবে।

    গোপালগঞ্জ হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ। এখানে রয়েছে নানাবিধ দর্শনীয় স্থান ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনাবলী। কালের গর্ভে অনেক নিদর্শনাবলী হারিয়ে গেলেও এখানে বিভিন্ন প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, মঠ এ জনপদের গুরুত্বকে প্রাণবন্ত করে রেখেছে। চন্দ্রা ভর্মা ফোর্ট (কোটাল দুর্গ) চতুর্থ শতাব্দীতে স্থাপিত এ ফোর্টটি পূর্ববঙ্গের সবচেয়ে বড় দূর্গ হিসেবে পরিচিত, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈত্রিক বাড়ী, কবি কৃষ্ণনাথ সর্বভৌম (ললিত লবঙ্গলতা কাব্যগন্থের প্রণেতা)-র বাড়ী, হরিণাহাটির জমিদার বাড়ী, দিঘলীয়া দক্ষিণা কালী বাড়ী, বহুতলী মসজিদ (১৫৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত), সেন্ট মথুরানাথের সমাধি, উজানীর জমিদার বাড়ী, শ্রীধাম ওড়াকান্দি, জগদান্দ মহাশয়ের তীর্থভূমি, ননীক্ষীরে নবরত্ন মঠ, ঐতিহাসিক রমেশ চন্দ্র মজুমদারের পৈত্রিক বাড়ী, ধর্মরায়ের বাড়ী, দীঘলিয়া দক্ষিণা কালীবাড়ী, মধুমতি নদী, বিলরুট ক্যানেল, হেরন কান্দির আম গাছ, আড়পাড়া মুন্সীবাড়ি, শুকদেবের আশ্রম, খানার পাড় দীঘি, উলপুর জমিদার বাড়ী, ’৭১-এর বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ (স্মৃতিস্তম্ভ), আদালত ভবন, পুরাতন হাসপাতাল ভবন, এছাড়া রাজা স্কন্ধ গুপ্তের (৪৫৫-৪৬৭ খ্রিস্টাব্দে) স্বর্নমূদ্রা, রাজা সমাচার দেব, ধর্মাদিত্য ও গোপ চন্দ্রের আমলের তাম্রলিপি, সত্য ধর্মের প্রবর্তক দীন নাথ সেনের সমাধিসৌধ (জলিরপাড়, মুকসুদপুর) ইত্যাদি এ জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ। এছাড়া টুংগীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স একটি দর্শনীয় স্থান।

    এ গোপালগঞ্জেই জন্ম হয়েছে অসংখ্য জ্ঞানী, গুনী ও বিখ্যাত মানুষের যার উদাহরণ- বাঙালী জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান (টুঙ্গিপাড়া), বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (টুঙ্গিপাড়া), উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ইসলামিক চিন্তাবিদ সদর শাহ শামচুল হক ফরিদপুরী (গওহরডাংগা, টুংগীপাড়া), পুর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর (ওড়াকান্দি, কাশিয়ানী), ঐতিহাসিক ও হিষ্ট্রি অব বেঙ্গল গ্রন্থের রচয়িতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার (খান্দারপাড়, মুকসুদপুর), কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (ঊনশিয়া, কোটালীপাড়া), কবি আবুল হাসান (বর্নি, টুঙ্গিপাড়া), চিত্রশিল্পী ও ইন্ডিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য এমিরেটাস প্রফেসর যোগেন চৌধুরী (ডহরপাড়া, কোটালীপাড়া), উপমহাদেশীয় সঙ্গীতের রাজেন্দ্রাণী ফিরোজা বেগম (রাতইল ঘোনাপাড়া, কাশিয়ানী), প্রখ্যাত রাজনীতিক, আইনজীবী ও সাহিত্যিক আবদুস সালাম খান (বেজড়া, মুকসুদপুর), প্রমিত বাংলা উচ্চারণের পথিকৃৎ – বাক্শিল্পী নরেন বিশ্বাস (মাঝিগাতি, মুকসুদপুর), বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ (গোপালগঞ্জ), বর্তমান র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ (গোপালগঞ্জ), সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ সাঈদ (গোপালগঞ্জ), মানবাধিকারকর্মী মোহিউদ্দীন ফারুক (গোপালগঞ্জ), খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ (তারাইল, কাশিয়ানী), চাইম ব্যান্ড লিডার খালিদ (গোপালগঞ্জ), বিশিষ্ট সাংবাদিক নির্মল সেন (দিঘীরপাড়, কোটালীপাড়া), এছাড়াও আরও অনেক বরেণ্য ব্যক্তির বাড়ি, জন্মস্থান ও পৈত্রিক নিবাস এ জেলায়।

    আমাদের গোপালগঞ্জে আছে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর নাম করা অসংখ্য স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়। আছে বঙ্গবন্ধু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, গোপালগঞ্জ নার্সিং ইন্সটিটিউট। আট কোটি টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল লাইব্রেরি ও ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব করা হচ্ছে। এছাড়া এখানে রয়েছে গোপালগঞ্জ আন্তর্জাতিক শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল এ্যান্ড জিমনেশিয়াম, মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানসমূহ।

    গোপালগঞ্জ তার নিজেস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে স্বক্রীয় কালের ধারায় উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশের মুখ। কোটালীপাড়ার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড়, জলিরপাড়ের নৌকা বাইচ, লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ষাঁড়ের লড়াই, কোটালিপাড়ার চড়ক ঘুল্লি ইত্যাদি এখনও পালিত হয়ে আসছে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344