• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মানুষের তারকাদের স্ক্যান্ডাল নিয়ে এত আগ্রহ কেন?

    | ১০ নভেম্বর ২০১৯ | ১১:২২ অপরাহ্ণ

    মানুষের তারকাদের স্ক্যান্ডাল নিয়ে এত আগ্রহ কেন?

    ‘খিদার নষ্ট মুড়ি, পাড়ার নষ্ট বুড়ি’ বহুল প্রচলিত এ কথার মূল বক্তব্য পরচর্চা। গসিপ বা পরচর্চা বহু পুরোনো বিষয়। দীর্ঘ কাল ধরে চলে আসা পরচর্চা এখনো চলমান।


    সময়ের সঙ্গে বিশ্ব অনেক উন্নত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিগত দিক থেকে নতুন অনেক কিছু আবিষ্কৃত হয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এখন পরচর্চার অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। গ্রামের ওই বুড়ির মতো অনেক মানুষকে পরচর্চা করতে দেখা যায়।


    কিন্তু তারকাদের গোপন বিষয় বা স্ক্যান্ডাল নিয়ে মানুষের গসিপ করার আগ্রহ একটু বেশি। তাছাড়া তারকাদের নিয়ে গসিপ নিউজও এখন অহরহ চোখে পড়ে। তবে এই গসিপ নিউজের ইতিহাস খুব পুরোনো নয়।

    জানা যায়, ১৮৪০ সালের দিকে এর সূচনা। যাই হোক, তারকাদের গোপন বিষয় বা স্ক্যান্ডাল নিয়ে মানুষের আগ্রহ আকাশচুম্বী এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ অভিনয়শিল্পী হিল্লোল-তিন্নির স্ক্যান্ডাল, সাদিয়া জাহান প্রভার স্ক্যান্ডাল থেকে শুরু করে সর্বশেষ মডেল-অভিনেত্রী মিথিলা ও নাট্যনির্মাতা ফাহমির ঘনিষ্ঠ কিছু স্থিরচিত্র তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

    তারকাদের স্ক্যান্ডাল নিয়ে মানুষের আগ্রহের বিষয়ে বেশ কিছু গবেষণা পাওয়া গেছে। এসবের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন গবেষকরা। তারকাদের স্ক্যান্ডাল মানুষের মস্তিষ্কে কী প্রভাব ফেলে বিষয়টি নিয়ে ২০১৫ সালে একদল চাইনিজ গবেষক কাজ করেন। সোশ্যাল নিউরোসায়েন্স জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। গবেষণার জন্য ১৭জন শিক্ষার্থীকে নেয়া হয়। তারপর তাদের সম্পর্কে তাদেরই গসিপ শোনানো হয়। এরপর তাদের বন্ধুদের সম্পর্কে শোনানো হয়, এরপর একজন বিখ্যাত তারকাকে নিয়ে গসিপ শোনানো হয়। এই তারকাকে ওই শিক্ষার্থীরা জানেন কিন্তু তার ব্যাপারে পূর্বে কখনো আগ্রহ প্রকাশ করেননি। শিক্ষার্থীদের দলে খুব ভালো ও খুব খারাপ কাজ করেছেন এমন সদস্যও ছিল।

    গসিপ শোনার পর শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্কে কী প্রভাব পড়ে তা জানার জন্য মস্তিষ্ক স্ক্যান করা হয়। শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, গসিপ শোনার পর তারা কেমন অনুভব করছেন?

    শিক্ষার্থীরা জানান, নিজেদের বেলায় ইতিবাচক গসিপ ও অন্যান্যের বেলায় নেতিবাচক গসিপ শুনতে বেশি পছন্দ করেন। এদিকে ব্রেইন স্ক্যানের ফলাফলে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্কের প্লিজার অ্যান্ড রিওয়ার্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অঞ্চল এই গসিপের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই অঞ্চলটির নাম কডেট নিউক্লিয়াস। মানুষ নেতিবাচক পিয়ার গসিপ বা সঙ্গীদের ব্যাপারে নেতিবাচক গসিপ শুনলে তার মস্তিষ্কের এই অংশ যতটা না সক্রিয় হয় তার তুলনায় আরো বেশি সক্রিয় হয় যখন তারকাদের নেতিবাচক গসিপ শোনে।

    তারকাদের গসিপ শোনার সময় শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্কের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত অঞ্চলগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। অর্থাৎ তারকারা তাদের কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে যখন হেয় হয়, তখন সেই গসিপ শুনে ব্যক্তি আনন্দ পায়। কিন্তু ওই ব্যক্তি এই আনন্দকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে।

    ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার (ইউসিএলএ) মিডিয়া সাইকোলজির অধ্যাপক এমিরেটাস স্টুয়ার্ট ফিশার বলেন, ‘তারকাদের জীবন নিয়ে চিন্তামগ্ন থাকাটা আসলে অস্বাস্থ্যকর নয়। কিছু ক্ষেত্রে এটা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপকারে আসে। এ ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ‘কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ’ বলতে পারেন।’ ইউনিভার্সিটি অব মিশৌরির গবেষক এমান্ডা হিন্নান্ট ও এলিজাবেথ হেন্ড্রিকসন। ২০১০ সালে তারা একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়, তারকাদের গসিপ সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারে। কারণ স্বাস্থ্য বিষয়ক গণপ্রচারের চেয়ে, যদি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে কোনো তারকা জড়িত থাকেন তবে সে বিষয়ে মানুষ গভীরভাবে প্রভাবিত হন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344