• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কর্মস্থলের দিকে ছুটছেন কর্মজীবীরা

    ডেস্ক | ০৪ এপ্রিল ২০২০ | ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

    সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কর্মস্থলের দিকে ছুটছেন কর্মজীবীরা

    webnewsdesign.com

    করোনা আতঙ্কে কাঁপছে বিশ্ব, আতঙ্কিত প্রতিটি দেশ। বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি অবনতির কারণে সাধারণ ছুটির ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সরকার। চলাচলের উপর জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। তবে গার্মেন্টস কর্মীদের ছুটি শেষ হওয়ার সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কর্মস্থলে দিকে ছুুুটছেন কর্মজীবীরা।

    শনিবার সকাল থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আবার কর্মস্থল অভিমুখে ছুটতে শুরু করেছে। আজ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পোশাক শ্রমিকসহ মানুষের প্রচুর ভিড় দেখা যায়। দৌলতদিয়া ঘাটে ঘুরে দেখা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ পণ্যবাহী খালি ট্রাক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মাহেন্দ্রসহ বিভিন্ন ছোট-খাটো যানবাহনে করে এসে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নামছে। দূরপাল্লার পরিবহনসহ অন্যান্য যানবাহন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ অনেক কষ্ট করে ঘাটে পৌঁছেছে। এদের বেশির ভাগই বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিক। তাদের অনেকেই কারখানা খোলার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছেন।

    সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরে এ ছুটির মেয়াদ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। করোনাভাইরাসে ছড়িয়ে পড়া রোধে অন্তত দুই সপ্তাহ সবাইকে বাড়িতে রাখতে ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সরকারের এই পদক্ষেপ। এ সময়কালে জনসমাগম তো দূরে কথা, বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরেও যাতে মানুষ বের না হয়, এ জন্য মাঠে নামানো হয়েছে সেনা। চলছে প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত সচেতনতা কার্যক্রম ও অভিযান।


    প্রতিনিয়ত দেশের করোনা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। ঢাকামুখী ঢলের কারণে সেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই মুহূর্তে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের উপর সব চেয়ে জোর দেয়া হয়েছে। তবে গার্মেন্টস কর্মীদের ছুটি শেষ হওয়ায় ঢাকামুখী ঢলে এক দিনেই ভেঙে পড়েছে দেশের সামাজিক দূরত্ব।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বীকৃত ওষুধ ও প্রতিষেধক এখনো উদ্ভাবিত হয়নি। তাই রোগ শনাক্তকরণে পরীক্ষা জোরদার করতে হবে। আর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার পাশাপাশি পরস্পরের মধ্যে কমপক্ষে ৩ ফুট বা ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়ানো, গণ-পরিবহন ব্যবহার না করার মতো বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই আপাতত সমাধান।

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নিচ্ছে। গবেষকেরাও বলছেন, শুধু সামাজিক দূরত্বের নিয়মকানুন মানলেই করোনার সংক্রমণে অর্ধেক মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বীকৃত ওষুধ ও প্রতিষেধক এখনো উদ্ভাবিত হয়নি। তাই রোগ শনাক্তকরণে পরীক্ষা জোরদারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া পরস্পরের মধ্যে কমপক্ষে ৩ ফুট বা ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়ানো, গণ-পরিবহন ব্যবহার না করার মতো বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই আপাতত সমাধান।

    সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের একদল গবেষক একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করেছেন। ইউরোপের ১১টি দেশে সংক্রমণের হার ও চিকিৎসাব্যবস্থা ছাড়া সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ আমলে নিয়ে মডেলটি দাঁড় করানো হয়েছে। এই দেশগুলো হলো ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, বেলজিয়াম ও অস্ট্রিয়া। প্রতিবেদনে ওই ১১ দেশে সামাজিক দূরত্বসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ না নেওয়া হলে কত মৃত্যু হতে পারত, তার একটি ধারণাগত হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। গাণিতিক মডেলের ফলাফলে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা মন্তব্য করেছেন, করোনা মহামারিতে চলতি বছর মারা যেতে পারে দুই কোটির মতো মানুষ। তবে সামাজিক দূরত্বের নিয়মকানুনগুলো মানা না হলে মৃত্যু চার কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদি আরও আগে কড়াকড়িভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যেত, তাহলে ৩ কোটি ৮৭ লাখ মৃত্যু এড়ানো যেত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার প্রতি জোর দিয়ে যাচ্ছে।

    তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেয়া হলেও কেউ মানছেন না। সর্বশেষ পোশাক শ্রমিকদের ছুটি শেষ হওয়ায় মানুষ সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘন করা শুরু করে। এদিকে করোনাভাইরাসে দেশে নতুন করে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৮ জনে। শনিবার দুপুরে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এসব তথ্য জানান। ফ্লোরা বলেন, দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৫৫৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় ৪৩৪টি। এছাড়া নতুন করে আরো ৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে আইইডিসিআরের পরীক্ষায় এবং বাকি একজন ঢাকার বাইরের ল্যাবে। এছাড়া নতুন করে ৪ জনসহ মোট ৩০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন আগে থেকে আক্রান্ত ছিলেন, আরেকজন নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ছিলেন। একজনের বয়স ৯০ বছর এবং আরেকজনের ৬৮ বছর। একজন ঢাকার, আরেকজন ঢাকার বাইরের। একজন হৃদরোগী ছিলেন, আরেকজনের স্ট্রোক করার ইতিহাস ছিল।

    আইইডিসিআর পরিচালক জানান, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে দুজন শিশু রয়েছেন। যাদের বয়স ১০ বছরের নিচে। তিন জনের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। দুজনের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। একজনের বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ও অন্যজনের বয়স ৯০ বছর। তিনি জানান, বর্তমানে মোট চিকিৎসাধীন রোগী ৩২ জন। এর মধ্যে ১২ জন বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২০ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344