• শিরোনাম



    UTTARA UNITED COLLEGE

    #UUC_2020

    Posted by Uttara United College on Friday, 29 May 2020

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সাঁথিয়ায় অনাহারে অর্ধাহারে তাঁত শ্রমিকেরা, সুদ মওকুফের দাবি তাঁত মালিকদের

    সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতাঃ | ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ৬:১৮ অপরাহ্ণ

    সাঁথিয়ায় অনাহারে অর্ধাহারে তাঁত শ্রমিকেরা, সুদ মওকুফের দাবি তাঁত মালিকদের

    করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় তাঁত সমৃদ্ধ এলাকা পাবনার সাঁথিয়ায়ও সবকিছু বন্ধ। বন্ধ রয়েছে সকল তাঁতের কারখানা। তাঁতপল্লী যেন এখন পরিনত হয়েছে সুনশান নিরাবতা ও নিস্তদ্ধতা।
    ফলে, দুর্ভোগে পড়েছে হাজার হাজার তাঁত শ্রমিকসহ মালিকগণ। অব্যহত তাঁত মিল বন্ধের কারণে তাঁতীদের অর্ধাহারে অনাহারে দিন যাপন করতে হচ্ছে। সরকারি সহযোগীতা না পেলে ধংসের মুখে পরতে পারে পাবনার তাঁত শিল্প এমনটাই মনে করছেন তাঁত ব্যবসায়ীরা। তাঁতিরা জানান, মহামারি করোনার কারণে কারখানা বন্ধ ঘোষনার ২১দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত সরকারি বা বে-সরকারি কোন ত্রাণ সহায়াতা পাননি কেউ। অপরদিকে হাটÑবাজার বন্ধ থাাকায় উৎপাদিত কাপড় অনেক জমে গেলেও বিক্রি করতে পারছেন না কেউ। তাঁত মালিকেরা বলেন এ অবস্থায় নিজেরাই চলতে পারছি না শ্রমিকদের কয়দিনই বা চালানো যায়। এমনিতেই সংকটের মধ্যে চলছিল তাঁত ব্যবসা তার উপর করোনা মহামারিতে বন্ধ ঘোষনায় আরও লোকসানে যাচ্ছে পাবনারতাঁতশিল্প। অপরদিকে ব্যবসাবন্ধহলেও ব্যাংকের ঋণের সুদ বাড়ছে হু হুকরে। এ নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন তাঁতীরা। সরকারি-বেসরকারি কোন ত্রাণসহায়তা পাচ্ছেন না। সরকার যদি তাদের সহযোগীতা না করে তবে এশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।


    সরেজমিন উপজেলার তাঁত সমৃদ্ধ পিপুলিয়া, শশদিয়া, ফকিরপাড়া, ছেচানিয়া, করমজা, ধুলাউড়ি, ঘুঘুদহ, তেতুঁলিয়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায় ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যেসব তাঁতপল্লীতে খটখট শব্দে মুখরিত ছিল।


    হঠাৎ করোনার প্রভাবে তাঁতীপাড়া যেন সুশান, নিস্তব্ধ নিরাবতা বিরাজ করছে। অথচ রমজানের আগের মাস থেকে তাঁতিদের ব্যবসার কাঙ্খিত সময়। সারা বছর ধরে তাঁতিরা এই সময়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। এই সময়েই কাপড়ের সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকায় তাঁদের দম ফেলার সময় থাকে না। অথচ বছরের সবচেয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তাঁতীরা। সাংবাদিক দেখে কয়েকজন শ্রমিক এগিয়ে এসে বলেন ভাই আমরা না খেয়ে মরে যাচ্ছি। প্লিজ আমাদের জন্য কিছু করেন। আর পারছি না।

    সাঁথিয়ার নজরুল ইসলাম নজু নামের এক প্রবীণ তাঁত শ্রমিক জানান, আজ তিন সপ্তাহ আমাদের কোন কাজকর্ম নেই। মহাজন কাপড় বিক্রি না করলে টাকা দিতে পারবে না। ঘরে খাবার নেই পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে চলতে পারছি না। আজ প্রায় ১ মাস হতে চললো কারও থেকে কোন সহায়তাও পাইনি।পিপুলিয়া গ্রামের হাফিজুল,আব্দুল্লাহ সহ প্রায় ১০জন তাঁত শ্রমিক জানায় প্রতি সপ্তাহে যে টাকা বিল পেতাম তা দিয়ে কোনভাবে পরিবার নিয়ে কোনভাবে কেটে যেত। তাঁত বন্ধ থাকায় আজ ৩ সপ্তাহ কোন বিল পাই না। কোন কাজকর্ম নেই। ঘরেও কোন খাবার নেই, বাজার নেই কার কাছে বলবো। কি যে কষ্টে আছি তা আল্লাহ জানেন। বাংলাদেশ তাঁতবোর্ড সুত্রে জানা যায়,পাবনার সাঁথিয়া বেসিক সেন্টারের অধিনে প্রায় ৩৫ হাজার তাঁত রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় লক্ষাধীক শ্রমিক কাজ করছে এখানে। এখানকার বেশিরভাগ কারখানাগুলো ব্যাংকের ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে আসছে। মহামারি করোনা রোধে ক্রমাগত বন্ধের কারণে একদিকে যেমন তারা বেকার হয়ে পড়েছে অপরদিকে খাদ্যাভাবে তাদের অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে। এ পর্যন্ত সরকারী কোন প্রকার ত্রাণ সহায়তা আসেনী। তবে তালিকা প্রস্তুত চলছে বলে জানান তাঁত বোর্ডের এক কর্মচারি।

    সাঁথিয়ার খ্যাতনামা তাঁতব্যবসায়ী হালাল লুঙ্গির প্রোপাইটর আলহাজ্ব ইন্তাজ আলী মল্লিক বলেন, আমার প্রায় শতাধিক তাঁত রয়েছে। এখানে নারী পুরুষ মিলে প্রায় আড়াইশত শ্রমিক কাজ করেন। আজ প্রায় ১মাস হতে চলল কারখানা বন্ধ রয়েছে। হাটবাজারও বন্ধ। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পেরে ব্যাংক থেকে মোটা অংকের ঋণের কিস্তি দিতে পারছি না। প্রতি সপ্তাহে রিকভারি করতে হয় কিন্তু তা পারছিনা। এ দিকে কারখানা বন্ধ থাকলেও সুদতো বেড়েই চলছে। কিভাবে সুদের টাকা দিব তা আল্লাহ জানেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট ঋণের সুদ মওকুফের আবেদন জানান।

    পিপুলিয়া গ্রামের তাঁতী দেলোয়ার হেসেন জানান, বাড়িঘর জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৪০টি তাঁত কিনে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। তাঁতের উৎপাদিত লুঙ্গি বিক্রি করতে পারছি না। ব্যাংকের কিস্তির টাকা দিতে পারছিনা। তাঁত না চললেও সুদ তো বেড়েই চলছে। তাঁত বিক্রি করে সুদের টাকা দেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। ভিটেমাটি বিক্রি করে ঋণের টাকা দিতে হবে। অপরদিকে এখানে প্রায় দেড় শ’ তাঁত শ্রমিক কাজ করছে। তারাও অর্ধাহারে অনাহারে দিন যাপন করছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আবেদন রেখে বলেন, তিনি মানবতার মা। তিনি অবশ্যই আমাদের ধংস হতে দিবেন না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই তাঁত বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজ তা ধংসের দ্বার প্রান্তে। সাঁথিয়া বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার শ্রী জুয়েল চন্দ্র তাঁতীদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, তাঁতবোর্ড থেকে তালিকাচেয়েছেন। আমরা সমিতির মাধ্যমে অসহায় তাঁতী ও তাঁতশ্রমিকের তালিকা তৈরি করছি। খুব দ্রুত এগুলো পাঠিয়ে দিব বোর্ডে। এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি তালিকা জমা দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য সহযোগীতা আসেনী। সাঁথিয়া পৌর মেয়র মিরাজুল ইসলাম বলেন, কয়েক শ’তাঁতী পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দেয়ার উদ্যাগ নেয়া হয়েছে। খুবই অল্প সময়ের তা বিতরণকরবো। আর তাঁতীদের ব্যাংক ঋণের বিষয়ে সুদ মওকুফের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ করবো।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহম্মেদ জানান, সরকারের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ এসেছিল তা বিভিন্ন উপজেলায় চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে অসহায়দের মাঝে বন্টন করা হচ্ছে। ত্রাণ অপর্যাপ্ত থাকায় সবাইকে দেয়া সম্ভব হয় নাই। আবার আসবে। এলে পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেয়া হবে। তাঁত মালিকদের ঋণের সুদ মওকুফের জন্য সুপারিশ করা হবে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344