• শিরোনাম



    UTTARA UNITED COLLEGE

    #UUC_2020

    Posted by Uttara United College on Friday, 29 May 2020

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    অর্থনীতিতে করোনার প্রভাবও আমাদের করণীয়

    সৈয়দ আব্দুল হামিদ | ১১ মে ২০২০ | ৩:১৫ অপরাহ্ণ

    অর্থনীতিতে করোনার প্রভাবও আমাদের করণীয়

    webnewsdesign.com

    সৈয়দ আব্দুল হামিদ
    করোনার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি আজ অবরুদ্ধ। ধেয়ে আসছে মহামন্দা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ মহামন্দার মাত্রা ১৯২০ সালের মহামন্দা থেকেও ভয়াবহ হতে পারে। বিশ্বের বড় বড় ও শক্তিশালী অর্থনীতির দেশের সরকারপ্রধানদের কপালে দুশ্চিন্তার কালো ছাপ স্পষ্ট। এটা যতটা কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যার এবং এর ফলে মৃত্যুহারের ঊর্ধমুখীর জন্য, ঠিক ততটাই অর্থনীতিতে মহামন্দার আশঙ্কা নিয়ে। এ দুশ্চিন্তায় জার্মান অর্থমন্ত্রী থমাস শেফার আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুশ্চিন্তা বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের অর্থনীতির জন্যও কম নয়, বরং বহুমুখী। করোনা মোকাবেলার প্রচলিত লকডাউন থিসিস অনুসরণ করার ফলে বলা চলে কৃষি উৎপাদন ছাড়া পুরো অর্থনীতি আজ অবরুদ্ধ।

    করোনা প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশিজনিত শুদ্ধাচার মেনে চলাসহ শারিরিক দূরত্বের নীতিমালার ওপর জোর দেয়ার মূল কারণ দুটি—(১) একসঙ্গে অনেক মানুষ আক্রান্ত হওয়া প্রতিরোধ করে স্ব-স্ব দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করোনা মোকাবেলার ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং (২) ভ্যাকসিন ও প্রতিষেধক তৈরি করার জন্য যে সময় দরকার, সেই পর্যন্ত আক্রান্তের হারকে সহনীয় মাত্রায় রাখা। উন্নত বিশ্বের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে শারিরিক দূরত্ব বজায় রাখা সহজতর হওয়ার পরেও দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোয় কভিড-১৯-এর রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বেড়ে যাচ্ছে। তাই করোনা মোকাবেলায় সাধারণ লকডাউন পদ্ধতি কতটুকু কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এসব দেশ লকডাউন শুরু করতে ধীর নীতি অনুসরণ করেছে। তবে শুরুতেই লকডাউন, অ্যাগ্রেসিভ টেস্ট এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, আইসল্যান্ড ও জার্মানি এক্ষেত্রে বেশ সফল হয়েছে।


    অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদে কার্যকরীভাবে শারিরিক দূরত্ব বজায় রাখা খুব কঠিন। উন্নত বিশ্বের সরকার ও জনগণের আর্থিক সক্ষমতা থাকায় অবরুদ্ধ অবস্থায় মানুষের মধ্যে খাবারের জন্য হাহাকার তেমন নেই। করোনা মহামারী মোকাবেলায় উন্নত বিশ্বের তুলনায় এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক অসুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশের সরকারকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। একদিকে যেমন জনগণকে শারিরিক দূরত্বে উদ্বুদ্ধ করার জন্য আর্মি, পুলিশ, বিডিআরসহ সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে এবং করোনা টেস্টের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ কভিড-১৯ ম্যানেজমেন্টের জন্য বিনিয়োগ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে কয়েক কোটি শ্রমজীবী মানুষের আহার প্রদানের জন্যও চিন্তা করতে হচ্ছে। সঠিক পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সময়মতো শ্রমজীবী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছতে না পারলে তারা জীবিকার তাগিদে ঘরের বাইরে বের হবে, যার লক্ষণ স্পষ্ট। ফলে জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। এমনকি আমাদের সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল মর্যাদাও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

    তাই বাংলাদেশকে এ মুহূর্তে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবতে হবে। করোনা মোকাবেলায় প্রচলিত ধারণার বাইরে অন্য কোনো কার্যকরী উপায় আছে কিনা, তা এখনো পরীক্ষিত নয়। তবে করোনা মোকাবেলা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে আনতে সর্বস্তরে লকডাউনের পরিবর্তে হটস্পটভিত্তিক লকডাউন এবং সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহারের ওপর অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিসহ বেশকিছু গবেষণা জোর দিয়েছে। আমরা আশা করি, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ বাংলাদেশে করোনার হটস্পটগুলো চিহ্নিত হয়ে যাবে। তাই সারা দেশে বর্তমান প্রচলিত লকডাউনের পরিবর্তে কভিড-১৯-এর রোগীর সংখ্যা চিহ্নিত হওয়ার ভিত্তিতে ছোট ছোট এলাকাকেন্দ্রিক (যেমন ইউনিয়ন বা উপজেলা) লকডাউন করা যেতে পারে। তাছাড়া সবার জন্য দেশে যতদিন করোনার প্রভাব থাকবে, ততদিন বাড়ির বাইরে অবস্থানের সময় বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহারের ওপরও জোর দেয়া প্রয়োজন। জনগণের মধ্যে করোনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কেরালার মতো স্লোগান (শারীরিক দূরত্ব ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখা) প্রচারে জোর দেয়া উচিত।

    আমাদের মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশে বোরো মৌসুমের ধান কাটা আসন্ন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সারা দেশ অবরুদ্ধ থাকার ফলে ধান কাটার কৃষি শ্রমিক পাওয়া দুঃসাধ্য। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ আমাদের শস্যভাণ্ডারগুলোয় সমস্যা আরো প্রকট। মৌসুমি ঝড়-বৃষ্টি শুরু না হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে এখন পর্যন্ত ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। যতদূর জানা যায়, এ মৌসুমে বোরোর ফলনও ভালো হয়েছে। উল্লেখ্য, কৃষি শ্রমিকের অভাবে কৃষকরা সময়মতো ফসল তুলতে না পারলে দেশ চরম খাদ্য সংকটে পড়বে, যা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে উঠবে। তাই ধান কাটার কাজ কীভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা যায়, তার জন্য আশু সিদ্ধান্ত জরুরি। প্রয়োজনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় উত্তরবঙ্গ বা অন্যান্য স্থান থেকে কৃষি শ্রমিক এনে এসব এলাকার ধান কাটার কাজ সম্পন্ন করা যেতে পারে। তবে শ্রমিক নির্বাচনের আগে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। ধান কাটার কাজ সম্পন্ন করার সময় শারীরিক দূরত্বসহ মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এসব শ্রমিকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তারা সার্বিক কাজ তদারক করতে পারেন।
    বর্তমান বাজার ব্যবস্থা অচল থাকায় ধান বিক্রি করে কৃষি শ্রমিকের মুজুরি দিতে হলে কৃষকরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কেননা তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন না। এক্ষেত্রে ধান কাটার মুজুরি জেলা উপজেলা প্রশাসন ও লোকাল কৃষি অফিসারদের মাধ্যমে কৃষির জন্য যে পাচ হাজার কোটি টাকা প্রনোদনা ঘোষণা করা হয়েছে তা থেকে প্রদান করা যেতে পারে। এটা কৃষকের তাৎক্ষনিক ভর্তুকি হিসেবে বেশ কাজে আসতে পারে।

    লেখক: অধ্যাপক
    স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
    s.a.hamid73@gmail.com

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344