• শিরোনাম



    UTTARA UNITED COLLEGE

    #UUC_2020

    Posted by Uttara United College on Friday, 29 May 2020

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    শেখ হাসিনার অবদান জাতি চিরদিনই স্মরণে রাখবে

    ইলিয়াস হক | ১৯ মে ২০২০ | ৩:১৫ অপরাহ্ণ

    শেখ হাসিনার অবদান জাতি চিরদিনই স্মরণে রাখবে

    webnewsdesign.com

    বাঙালি জাতির ইতিহাসে দুইটি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস রয়েছে। একটি ১৯৮১ সালের ১৭ই মে আর একটি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী। ইতিহাসে এই দুইটি দিন কেন গুরুত্বপূর্ণ ? কারণ সেদিন একজন ফিরে এসেছিলেন দীর্ঘ বন্ধীদশা জীবন থেকে স্বদেশের মাটিতে বিজয়ের বেশে। আর একজন পিতা-মাতা ভাই-ভাবীসহ স্বজন হারা একটি মেয়ে সকল আইন কানুন ভঙ্গ করে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছিলেন।

    জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী সেদিন তিনি পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করে বিজয়ের বেশে নিজ স্বাধীন বাংলার মাটিতে মুক্ত হয়ে ফিরে আসেন। এই দুইটি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসাবে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠন এই দুইটি দিন দলীয় ভাবে কর্মসূচী হিসাবে পালন করে থাকে।


    কিন্তু ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে দুইটি ভিন্ন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস দুই প্রকার, আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্য শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট তাঁর পরিবারের সকল সদস্যদের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। ১৫ই আগষ্ঠ ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম হত্যা কান্ডের সময়ে শেখ হাসিনার স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে তিনি বিদেশে ছিলেন। ছোট বোন শেখ রেহানা ও তাদের সঙ্গে ছিলেন। বিদেশে থাকার কারনে নরপশুদের পৈচাশিক হত্যাকান্ডে প্রাণে বেঁচে যান তারা দুই বোন। সেই সময় শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার জার্মান ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। নিজের দেশ তখন তাদের না আসতে আইন করা। তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই দেশে থাকার অনুমতি চান। সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর আতিথেয়তায় ভারতেই পরবাসী জীবন কাটাতে শুরু করেন দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

    দেশ তখন চলছিলো সামরিক শাসকের রাজত্ব। মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস ধ্বংশ করার মহা চেষ্টা। দেশকে আবারও পাকিস্থানি ভাব ধারায় ফিরিয়ে নিতে জিয়ার রাষ্ট্র পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধকে উল্টা রথে নিয়ে যাওয়া চেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর খুনী চক্ররা। ঠিক তখনেই ১৯৮১ সালের ১৪,১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারী তারিখে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী করা হয়। এবং ঐ বছরের ১৭ মে তারিখে সামরিক শাসক জিয়ার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন।

    সেদিন, শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের কাছেই চলে যায় হাজার হাজার মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়া লাখো মানুষের গগন বিদারী চিৎকার । বাবা-মা-ভাইসহ পরিবারের সব সদস্যের রক্তে ভেজা বাংলার মাটি স্পর্শ করে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই সময় উন্মত্ত জনতা সামরিক শাসক জিয়ার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিভিন্ন স্লোগানে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাকের চার পাশে কাপিয়ে স্লোগান দেয়।

    তিল ধারণের জায়গা ছিল না সেদিন কুর্মিটোলা থেকে মানিক মিয়া এভিন্যু পর্যন্ত। লাখ লাখ লোকের সংবর্ধনায় তিনি জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।”

    সংবর্ধনার পর শেখ হাসিনা তাঁর পরিবারের সদস্যদের রক্তে রঞ্জিত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের ৩২ নম্বর বাসায় প্রবেশ করতে চাইলে জিয়ার সামরিক বাহিনী তাঁকে তাঁর পৈত্রিক বাসায় প্রবেশ করতে দেয়নি। তখন তিনি বাড়ির সামনের রাস্তায় বসে কোরআন তেলাওয়াত করেন। এ ভাবেই তিনি ধানমন্ডির বাসার সামনে বসে দীর্ঘদিন কোরআন তেলাওয়াত করতেন। সেই সময়ে তাকে ঘিরে রাথতো কিছু নেতা কর্মীরা। নিজ পিতার বাড়ীর সামনে এভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে দেখেওে বিন্দুমাত্র দয়া হয়নি খুনি শাসকের। তাকে নিজের বাসার ভিতর প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

    সেদিনের শাসক গোষ্ঠী ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকরিরা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন না। নানা মহল শুশিল ও ভিন্ন ধারার নেতারা শেখ হাসিনাকে নিয়ে হয়তো আশাবাদী হতে পারে নাই। কারন তখনও পর্যন্ত অনেকেই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তার কর্মপন্থা সম্পর্কে ধারনা ছিল না।

    সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এবং ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তনের হোতাদের একটা ধারণা ছিল যে, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সমর্থনশক্তি কিছুটা জেগে উঠবে হয়তো। কিন্তু সেটি তাদের রাজনীতির জন্যে হুমকি হয়ে পড়বে না। তাই এই নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া হয় নাই।

    সামরিক জিয়ার শাসকের ১৯৮১ সালের দিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এতোটাই চাপ ছিলো যে বেশির ভাগ নেতরা বিভ্রান্ত এবং পথহারা হয়ে যাচ্ছিল। আওয়ামী লীগকে অনেকটাই নেতৃত্ব শূন্যতা করে ফেলিছিলো। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা এতোটাই তীব্র ছিল যে, এসবকে প্রতিহত করে রাজনীতির মাঠে নতুনভাবে দাঁড়ানো মোটেও সহজ কাজ ছিল না। এর মধ্যই শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় জিয়াউর রহমান নিহত হলে জিয়ার হত্যাকান্ডের অন্তরালে কি রহস্য ছিলো আজও মানুষ জানতে পারে নাই।

    জিয়ার হত্যাকান্ডের পর আরো একটি সামরিক শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল নেওয়ার পরই শেখ হাসিনা দলের হাল ধরলেন। নতুন করে সবকিছু গোছাতে লাগলেন। অভিজ্ঞতার অবস্থানটিও তখন তার যা ছিল তাই দিয়ে দলের রণনীতি, কৌশল নির্ধারণ করে এগিয়ে যেতে থাকলেন। এরই মধ্য তিনিও হলেন ঘাতকের ষড়যন্ত্রের টার্গেট। তাকে হত্যা করার যড়য়ন্ত্র শুরু হয়।

    তাকে হত্যার জন্য একবার নয়, দুইবার নয়, ১৯ বার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কখনো নিজ বাসভবনে, কখনো জনসভায় আবার কখনো তার গাড়ির বহরে। ক্ষমতায় যাতে শেখ হাসিনা কোনোভাবে যেতে না পারে সেই জন্য সকল ষড়যন্ত্রকারীরা গোপন জাল বিস্তার করতে থাকে বারে বারে।

    ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছিলেন রাজনীতির হাল ধরতে। সেনাশাসনের কবল থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনতে।

    বিদেশে অবস্থানকালে তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। দেশের মাটিতে পা রাখার দিন থেকেই শুরু হয় তাঁর নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামী জীবন। তিন দশকের অধিক সময় ধরে আজকের বাংরাদেশ তারই ফসল। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, পিতা-মাতা ভাইবোন স্বাজন হত্যার বিচার, যুদ্ধ অপরাধীর বিচার করে তার পিতার দল আওয়ামী লীগকে জাগিয়ে তোলেন। এবং তলাবিহীন ঝুড়ির দেশেকে পুনরায় টেনে তুলেন।

    দীর্ঘ পথচলায় আজকের ২০২০ সালের বাংলাদেশ শেখ হাসিনা একজন সফল রাষ্ট্র প্রধানই নন। একজন দক্ষ রাজনিতীর কৌশলী হয়ে নিজ দলের ক্ষমতা গ্রহন এবং পরপর তিন বার রাষ্ট্র ক্ষমাতয় থেকে দেশের পরিবর্তন করে হয়ে উঠেছেন একজন মানবতার ’মা’ বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত। স্বাজন হারানোর প্রতিশোধ নয় ঘাতকদের আইনের কাছে শোপার্দ করে বিচার করেছেন। তিনি বদলে যাওয়া ইতিহাস পুনঃউর্ধার করে উন্নয়নের গতিধারায় বাংলাদেশকে একজন সফল রাষ্ট্র নায়ক হয়েছেন।

    ২০২০ সালের ১৭ই মে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ঘরে বসেই আছি। সম্প্রতি বৈশ্বিক মহামরি করোনা ভাইরাস আক্রান্ত দেশে সামজিক দুরত্ব এবং সকল প্রকার সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকায় এবারে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে একা বসেই তার জন্য দীর্ঘায়ু কামনা করছি। এই বৈশ্বিক মাহামারিতে অনেক দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের ভেঙ্গে যাওয়ার পরও তার দৃঢ় মনোবল দৃঢ়তায় দেশ পরিচালনা করার ফল এখনও স্বাভাবিক পরিস্তিতে আছে আমাদের দেশ। তিনি ভবিষ্যতেও এই বিশ্ব সংকট মোকাবেলায়র কর্মপন্থা তেরী করে রেখেছেন। তাই বাংলাদেশর মানুষ ১৯৮১ সালের ১৭ই মে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে কি পেয়েছে সেই হিসাব সকলের সামনে এখন পানির মতো পরিস্কার হয়ে গেছে। এই দেশের মানুষ বদলে দেওয়া এই রাষ্ট্র, শেখ হাসিনার অবদানকে চির দিনই স্মরণে রাখবে।

    লেখকঃ ইলিয়াস হক, দপ্তর সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগ, গোপালগঞ্জ।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344