• শিরোনাম



    UTTARA UNITED COLLEGE

    #UUC_2020

    Posted by Uttara United College on Friday, 29 May 2020

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বাসভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি সম্পূর্ণ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত

    আর কে চৌধুরী | ০২ জুন ২০২০ | ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

    বাসভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি সম্পূর্ণ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত

    বাস মালিক এবং তাদের প্রতি দরদিকর্তা ব্যক্তিদের ঔদার্যে বাস ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং তা গতকাল থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। বাস মালিকদের সুহৃদের ভূমিকায় অবতীর্ণ বিআরটিএ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব রেখেছিল ৮০ শতাংশ। পরে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে তা ৬০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর যুক্তি বাস ভাড়া আদৌ বাড়ানো হয়নি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপদে থাকতে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলবে।


    বাস ভাড়া বৃদ্ধির পেছনে একপ্রস্থ যুক্তি হাজির করা হলেও তা সরিষার তেল ও গাওয়া ঘি একই দামে বিক্রি হওয়ার কিম্ভূতকিমাকার বাস্তবতা সৃষ্টি করেছে। ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের বাস ভাড়া প্রায় বিমান ভাড়ার কাছাকাছি চলে গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এসি বাসের ভাড়া ছিল সর্বোচ্চ ১২৫০ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেটি বেড়ে দাঁড়াবে ২০০০ টাকা। অথচ ১ জুন থেকে সর্বনিম্ন ২৫০০ টাকায় ঢাকা থেকে বিমানে উঠে চট্টগ্রামে যেতে পারছেন যাত্রীরা। বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত রোগের বিস্তার রোধে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকল্পে সরকার আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লায় চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে। এক্ষেত্রে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস বা মিনিবাস চলাচলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভাড়ার সঙ্গে ৬০ শতাংশ অতিরিক্ত যুক্ত হবে। প্রজ্ঞাপনে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে তা হচ্ছে, একজন যাত্রীকে বাস/মিনিবাসের পাশাপাশি দুটি আসনের একটি আসনে বসিয়ে অপর আসনটি অবশ্যই ফাঁকা রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে উল্লিখিত মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না এবং দাঁড়িয়ে কোনো যাত্রী বহন করা যাবে না। তবে কাজীর গরু খাতায় থাকলেও গোয়ালে তার দেখা যেমন মেলে না, তেমন অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়ায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীরা কোনো সুফল পাচ্ছে না।


    ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়ায় রাজধানী থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং দূরপাল্লার সকল রোডে যাত্রী পরিবহন চলাচল শুরু করেছে। সোমবার থেকে সীমিত আসনে যাত্রী পরিবহনে বাস সার্ভিসগুলো চলাচল শুরু করলেও অধিকাংশ পরিবহন এবং যাত্রীরা করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। অধিকাংশ বাস সার্ভিসের সামনে দীর্ঘ লাইন নিয়ে টিকিটের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ছিল না পারস্পরিক দূরত্ব। যাত্রীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ রোধে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিকদের মাঝে ছিল না কোন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা। যত্রতত্র যাত্রী উঠানো ও নামানো হচ্ছে। অধিকাংশ পরিবহনে নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা জীবানুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা। হেলপার কিংবা কনডাক্টর টেনে টেনে বাসে যাত্রী তুলছেন সেই পুরাতন নিয়মে। যাত্রী ওঠানোর জন্য যত্রতত্র দাঁড়াতে দেখা গেছে অধিকাংশ বাসকে। যাত্রী ওঠানোর ক্ষেত্রে এবং নামানোর ক্ষেত্রেও কোনও নিয়ম বা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।

    করোনা সঙ্কটের কারণে দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গতকাল সোমবার সীমিত পরিসরে গণপরিবহন তথা বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চালু হয়েছে। রোববার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। যাদের নিজস্ব পরিবহন নেই, সেই গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষের কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য গণপরিবহনই ভরসা। বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাসে যাতে যাত্রীদের গায়ে গায়ে লেগে বসতে বা দাঁড়াতে না হয় সে জন্য অর্ধেক আসন খালি রাখতে হবে। এর ফলে যাত্রীস্বল্পতা নিয়ে বাস চালাতে গেলে আর্থিক ক্ষতি হবে মালিকদের। তাই ভাড়া শতভাগ বাড়িয়ে সে ক্ষতি পুষিয়ে দিতে হবে। মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গত শনিবার ঢাকা ও সারা দেশে বাস-মিনিবাসের ভাড়া নজিরবিহীনভাবে ৮০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করে। নানা মহল থেকে ওই প্রস্তাবের সমালোচনা শুরু হলে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ভাড়ার হার ৬০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেন। এর সাথে দূরের যাত্রায় সেতু ও সড়কের টোল ইত্যাদিও ভাড়ার সাথে যুক্ত হবে।

    কিন্তু করোনার কারণে শুধু কি বাস মালিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন? লঞ্চ-স্টিমারের মালিকরা ক্ষতির শিকার হননি? তারা তো সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য ভাড়া বাড়ানোর আবদার করেননি! তাহলে বাস মালিকদের এই দাবি কেন? করোনায় লকডাউনে প্রায় তিন মাস ধরে সব শ্রেণীর মানুষকেই কার্যত গৃহবন্দী থাকতে হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ কাজ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অনেকে পুঁজি ভেঙে খেয়েছেন। বিপুল মানুষ ধার-দেনায় তলিয়ে গেছেন। আমাদের দেশে এখনো এ ধরনের নিম্ন আয়ের মানুষই সংখ্যাগরিষ্ঠ। শতকরা ৬০ ভাগ ভাড়া বাড়ানোর ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ এসব নিঃস্ব মানুষের ওপর কতটা চাপ পড়বে সড়কমন্ত্রী সেটি বিবেচনায় নিয়েছেন বলে মনে হয় না।

    যাত্রীকল্যাণ সমিতি ও কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কর্মকর্তারা বলেছেন, বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। দীর্ঘ দিন আয়-রোজগার না থাকায় গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষ খুবই দুরবস্থার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে ধারকর্জ করে কোনো মতে সংসার চালাচ্ছেন। এই মুহূর্তে বর্ধিত বাসভাড়া তাদের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দেবে। যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলেছে, পরিবহন খাতে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়, সেটি বন্ধ করলে যাত্রীদের ওপর বাড়তি ভাড়া চাপানোর প্রয়োজন পড়ত না। বিশ্ববাজারে অনেক আগেই তেলের দাম একেবারে কমে গেছে। তেলের দাম কমানো এবং গণপরিবহনে বেআইনি চাঁদাবাজি বন্ধ করলে যাত্রীদের আর ভোগান্তির মধ্যে ফেলতে হতো না।

    লেখক: মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ, সাবেক চেয়ারম্যান রাজউক, উপদেষ্টা, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আর কে চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সভাপতি বাংলাদেশ ম্যাচ ম্যানুফ্যাকচারার এসোসিয়েশন, সদস্য এফবিসিসিআই, মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344