• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    লঞ্চডুবিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২

    ডেস্ক | ২৯ জুন ২০২০ | ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

    লঞ্চডুবিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২

    রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া লঞ্চটি এখনো উঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে লঞ্চের ভেতরে কোনো মরদেহ রয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না উদ্ধারকর্মীরা।


    সোমবার সকাল নয়টায় বুড়িগঙ্গা নদীর শ্যামবাজার ফরাশগঞ্জ এলাকায় লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চটি। লঞ্চটি কাঠপট্টি ঘাটে ভেড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়।


    বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিবহন পরিদর্শক মো. সেলিম জানান, মুন্সীগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা মর্নিং বার্ড লঞ্চটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল। লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পর যাত্রীদের কয়েকজন সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারলেও অনেকেই ভেতরে আটকা পড়েন। তবে কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।

    ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌ-পুলিশ উদ্ধার কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত ৩২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ, আটজন নারী এবং তিনজন শিশুর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি দুই মরদেহ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

    ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানমের বরাত দিতে দমকলকর্মী আনিসুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, লঞ্চডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়াদের উদ্ধারে অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট এবং ১৪ জন ডুবুরি কাজ করছেন।

    এদিকে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন জানান, দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় নদীর মাঝখানে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উল্টে রয়েছে। তাই ভেতরে কোনো মৃতদেহ আছে কি না তা তল্লাশি করা যায়নি।

    এখন উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’। কিন্তু পোস্তগোলা ব্রিজের কারণে তা ঘটনাস্থলে আসতে পারছে না। ফলে লঞ্চটি এখনো উঠানো সম্ভব হয়নি।

    বিআইডব্লিউটিএ’র ইন্সপেক্টর দীনেশ বলেন, ‘উদ্ধার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। ডুবে যাওয়া লঞ্চটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

    নিহতদের পরিচয়- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজামানের দেয়া তথ্য মতে, ৩২টি মরদেহ মর্গে এসে পৌঁছেছে। যাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতরা সবার মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দা।

    নিহতরা হলেন- সিফাত (৮), আলম বেপারী, তালহা (২), ইসমাইল শরীফ (৩৫), সাইফুল ইসলাম (৪২) ও বাসুদেব নাথ (৪৫), সুবর্ণা বেগম (৩৮), তার ছেলে তামিম (১০), আবু সাঈদ (৩৯), সুফিয়া বেগম (৫০), শহিদুল ইসলাম (৬১), মিজানুর রহমান কনক (৩২), সত্য রঞ্জন বনিক (৬৫), শামীম বৈপারী (৪৪), বিউটি আক্তার (৩৮), আয়শা বেগম (৩৫), শাহাদাত হোসেন (৪৪), আবু তাহের বেপারী (৫৮), সুমন তালুকদার (৩৫), ময়না বেগম (৩৫), তার মেয়ে মুক্তা আক্তার (১৩), আফজাল শেখ (৪৮), মনিরুজ্জামান মনির (৪২), গোলাপ হোসেন (৫০), মো. মিল্লাত (৩৫), মো. আমির হোসেন (৫৫), সুমনা আক্তার (৩২), পাপ্পু (৩২), মো. মহিম (১৭), দিদার হোসেন (৪৫), হাফেজা খাতুন (৩৮), হাসিনা রহমান (৩৫)।

    নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, লঞ্চডুবিতে মারা যাওয়া প্রত্যেকের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। লাশ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন।

    এছাড়া বিআইডিব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকেও নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে জানিয়ে পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ময়ূর-২ লঞ্চটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344