নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | ২৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা : আনআম, আয়াত : ৯২
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
وَ هٰذَا كِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰهُ مُبٰرَكٌ مُّصَدِّقُ الَّذِیۡ بَیۡنَ یَدَیۡهِ وَ لِتُنۡذِرَ اُمَّ الۡقُرٰی وَ مَنۡ حَوۡلَهَا ؕ وَ الَّذِیۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ یُؤۡمِنُوۡنَ بِهٖ وَ هُمۡ عَلٰی صَلَاتِهِمۡ یُحَافِظُوۡنَ ﴿۹۲﴾
সরল অনুবাদ
(৯২) এ কিতাব (কোরআন) কল্যাণময় করে অবতীর্ণ করেছি, যা ওর পূর্বেকার কিতাবের সমর্থক এবং যা দিয়ে তুমি মক্কা ও ওর পার্শ্ববর্তী লোকদের সতর্ক কর। যারা পরকালে বিশ্বাস করে, তারা ওতে (কোরআনে) বিশ্বাস করে এবং তারা তাদের নামাযের হিফাযত করে।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা আনআমের ৯২ নং আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষনা করেছেন যে, তাওরাত আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল- একথা যেমন তারা স্বীকার করে, তেমনিভাবে এ কোরআনও আমি নাজিল করেছি। কোরআনের সত্যতার জন্য তাদের পক্ষ থেকে এ সাক্ষ্যই যথেষ্ট যে, কোরআন, তাওরাত ও ইঞ্জলে নাজিলকৃত সব বিষয়বস্তুর সত্যায়ন করে।
মক্কা মুআযযামাকে কোরআনুল কারীম ‘উম্মুল কুরা’ বলেছে। অর্থাৎ বস্তিসমূহের মূল। এর কারণ এই যে, ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী এখান থেকেই পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা হয়েছিল। তাছাড়া এ স্থানটিই সারা বিশ্বের কেবল এবং মুখ ফেরানোর কেন্দ্রবিন্দু।
(তাফসিরে বাগভি; ফাতহুল কাদির)
এর পর বলা হয়েছে, যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে, তারা কোরআনের প্রতিও বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামাজের হিফাজত করে। এতে ইয়াহুদী ও মুশরিকদের একটি অভিন্ন রোগ সম্পর্কে হুশিয়ার করা হয়েছে। অর্থাৎ যা ইচ্ছা মেনে নেয়া এবং যা ইচ্ছা প্রত্যাখ্যান করা, এর বিরুদ্ধে রণক্ষেত্র তৈরী করা- এটি আখেরাতে বিশ্বাসহীনতা রোগেরই প্রতিক্রিয়া। যে ব্যক্তি আখেরাতে বিশ্বাস করে, আল্লাহভীতি অবশ্যই তাকে যুক্তি-প্রমাণে চিন্তা-ভাবনা করতে এবং পৈতৃক প্রথার পরওয়া না করে সত্যকে গ্রহণ করে নিতে উদ্ভুদ্ধ করবে।
চিন্তা করলে দেখা যায়, আখেরাতের চিন্তা না থাকাই সর্বরোগের মূল কারণ।
কুফর ও শিরকসহ যাবতীয় পাপও এরই ফলশ্রুতি। আখেরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তির দ্বারা যদি কোনো সময় ভুল ও পাপ হয়েও যায়, তাতে তার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে এবং অবশেষে তাওবা করে পাপ থেকে বেঁচে থাকতে তাওবা করে। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহভীতি এবং আখেরাতভীতিই মানুষকে মানুষ করে এবং অপরাধ থেকে বিরত রাখে। এ কারণেই কোরআনুল কারিমের বিভিন্ন সুরায় আখেরাতের চিন্তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
পক্ষান্তরে যার অন্তরে আখেরাতের উপর ঈমান নেই সে কখনো অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকে না, আর ন্যায় কাজ করতে উৎসাহ বোধ করে না।(তাফসিরে তাবারি)