Advertise with us

জার্মান: শহরের রাস্তা-বাড়ি সবই হীরার তৈরি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ৪৮২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

জার্মান: শহরের রাস্তা-বাড়ি সবই হীরার তৈরি

এমন এক শহর, যেখানে পরে আছে হাজার হাজার টন হীরা। এমনকি সেই শহরের বাড়ি-ঘরের দেওয়াল থেকে শুরু করে সিঁড়ি পর্যন্ত সবকিছুতেই ছড়িয়ে রয়েছে মহামূল্যবান হীরা।

রূপকথা নয়, বাস্তবে এই পৃথিবীতেই আছে এই শহরের আস্তিত। জার্মানের ব্যাভারিয়া অঞ্চলের অবস্থিত এই শহরটির নাম নর্দলিনগেন। ব্যাভারিয়া অঞ্চলের প্রাচীন এ শহরে গথিক-স্থাপত্যরীতি মেনে বানানো সেন্ট জর্জেস গির্জা সিঁড়ি ভেঙে টাওয়ারে ওঠার সময় ভিকেরি খেয়াল করেন, সূর্যের আলোয় পাথুরে সিঁড়িগুলো কেমন চকচাক করে উঠছে। যেটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত।

সূর্যের আলোয় পাথুরে সিঁড়িগুলো কেমন চিকচিক করে উঠছে

সূর্যের আলোয় পাথুরে সিঁড়িগুলো কেমন চিকচিক করে উঠছে

ধারণা করা হয় ১৪২৭-১৫০৫ খ্রিষ্টাব্দে গির্জাটি বানানো হয়েছে। এতো পুরোনো গির্জার সিঁড়ি কালচে-বাদামি রং ধারণ করার কথা, তা না হয়ে দ্যুতি ছড়াচ্ছে! কারণ ব্যাখ্যা করলেন গির্জার টাওয়ারের রক্ষী হোর্স্ট লেনার, পুরো টাওয়ারটি বানানো হয়েছে সুভাইট পাথর দিয়ে। এর ভেতরে রয়েছে অনেক হীরা। ভাগ্যিস হীরাগুলো অনেক ছোট। তা না হলে এই গির্জা কবেই ভেঙে ফেলা হতো। লেনার কৌতুক করলেও কথাটি কিন্তু মিথ্যা নয়। লিখিত ইতিহাস অনুযায়ী নর্দলিনগেনের গোড়াপত্তন নবম শতকে। শহরটি তৈরির সময় সেখানকার স্থানীয় লোকজন জানত না, যে পাথর দিয়ে শহর গড়ছে তারা, তার মধ্যে রয়েছে ছোট ছোট অনেক হীরা। এই পাথর এলো কোথা থেকে?

এই পাথর এলো কোথা থেকে?

এই পাথর এলো কোথা থেকে?

প্রায় দেড় কোটি বছর আগে নর্দলিনগেন অঞ্চলে আছড়ে পড়েছিল এক কিলোমিটার প্রশস্তের একটি গ্রহাণু। সেকেন্ডে ২৫ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানা সেই গ্রহাণু সেখানে ২৬ কিলোমিটার অঞ্চল নিয়ে একটি গর্তের সৃষ্টি করে। আঘাতের চাপে ও তাপে কার্বন রূপান্তরিত হয় ভীষণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হীরকে, যা মরিচের গুঁড়ার মতো মিশে গেছে সুভাইট পাথরের সঙ্গে। হীরাগুলো এতোই ছোট যে সবই আকারে ০.২ মিলিমিটারের কম। খালি চোখে দেখা খুব কঠিন। গ্রহাণুর সেই সুভাইট পাথর দিয়ে বানানো হয়েছে শহরটির বেশির ভাগ বসতবাড়ি।

গ্রহাণুর সেই সুভাইট পাথর দিয়ে বানানো হয়েছে শহরটির বেশির ভাগ বসতবাড়ি

গ্রহাণুর সেই সুভাইট পাথর দিয়ে বানানো হয়েছে শহরটির বেশির ভাগ বসতবাড়ি

হীরার বাড়ি, হীরার শহর, এমন জায়গা পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই! নর্দলিনগেনের বাসিন্দা রোজউইথা ফেইলের ভাষ্য, এ শহরের মধ্যে যা কিছু দেখছেন, সবই সেই গ্রহাণুর আঘাতের ফলে সৃষ্ট পাথর দিয়ে গড়া। অথচ পঞ্চাশ দশক পর্যন্তও এখানকার বাসিন্দারা মনে করতেন, শহরটি কোনো মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের ওপর বানানো হয়েছে। ৬০ দশকে নর্দলিনগেনে ঢুঁ মেরে তাদের ভুল ভাঙিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই ভূতত্ত্ববিদ ইউজেনে শুমেকার এবং এডওয়ার্ড চাও। এ দুই ভূতত্ত্ববিদ প্রমাণ করেছিলেন, নর্দলিনগেন আসলে বসে আছে পৃথিবীতে আছড়ে পড়া একটি গ্রহাণুর ওপর!

সেকেন্ডে ২৫ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানা সেই গ্রহাণু সেখানে ২৬ কিলোমিটার অঞ্চল নিয়ে একটি গর্তের সৃষ্টি করে

সেকেন্ডে ২৫ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানা সেই গ্রহাণু সেখানে ২৬ কিলোমিটার অঞ্চল নিয়ে একটি গর্তের সৃষ্টি করে

নর্দলিনগেনের স্থানীয় ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এই শহরে প্রায় ৭২ হাজার টন হীরার মজুত আছে। কিন্তু সবই সুভাইট পাথরের মধ্যে মিশ্রিত। সুভাইট পাথর পৃথিবীর আরো বেশ কিছু জায়গায় মিলেছে, একই ঘটনার (গ্রহাণুর আছড়ে পড়া) ফলাফল হিসেবে। কিন্তু সেসব জায়গায় পাথরের মধ্যে ‘জেমস্টোন’(রত্নপাথর)-এর মিশ্রণ নর্দলিনগেনের মতো এত বেশি নয়। এখানকার পাথরের নমুনা দেখতে নর্দলিনগেনে নিয়মিতই পা পড়ে নাসা কিংবা ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির মহাকাশচারীদের। তবে কথা হচ্ছিল হীরা নিয়ে। আশ্চর্য হবেন, শহরের পরতে পরতে হীরা মিশে থাকলেও স্থানীয় লোকদের তা নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই।

সূত্র: বিবিসি

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন আজকের অগ্রবাণী-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া