নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির ‘বার্ষিক সাধারণ সভা–২০২৫’ গত ০২ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার ঢাকার মনিকো মিনা টাওয়ার, ৪৮/৩ পশ্চিম আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সমিতির সক্রিয় সদস্যদের উপস্থিতিতে সংগঠনের গত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা, বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন, আর্থিক হিসাব অনুমোদন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে নিবন্ধনের মাধ্যমে সভা শুরু হয়। জাতীয় সংগীত এবং সমিতির থিম সং পরিবেশন করা হয়।
এ সময় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রয়াত সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহান আরা হক-এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মানবাধিকারকর্মী ওসমান বিন হাদি এবং জুলাই গণআন্দোলনের শহীদ যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তাঁদের স্মরণে সভায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, বার্ষিক ও আর্থিক প্রতিবেদন পাঠ, নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনা, মুক্ত আলোচনা এবং মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তসলিমা খাতুন ছন্দা সকল সদস্যকে যথাসময়ে উপস্থিত থেকে সভাকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য ধন্যবাদ জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট সীমা জহুর (সভাপতি)। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট তসলিমা খাতুন ছন্দা (ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক)।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অ্যাডভোকেট সীমা জহুর(সভাপতি) বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ক্রমবর্ধমান হলেও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি দ্রুত বিচার, ভুক্তভোগীবান্ধব বিচার প্রক্রিয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অ্যাডভোকেট তসলিমা খাতুন ছন্দা (ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক) তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি দীর্ঘদিন ধরে নারী ও শিশুর জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং, রেডিয়েশন ও সাইকোসোশ্যাল সাপোর্ট প্রদান করে আসছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় এসব সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। সভায় আরও বক্তব্য দেন এডভোকেট জাকির আনারকলি (সহ সভাপতি ), এডভোকেট সেলিনা বেগম (কোষাধক্ষ), অ্যাডভোকেট জুবায়দা পারভীন(নির্বাহী সদস্য) ও অ্যাডভোকেট ফাহিমা আক্তার রিংকি, অ্যাডভোকেট মিতালী জাহান, এডভোকেট নিঘাত সীমা সহ অন্যান্য(সদস্য), তাঁরা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে থানা, আদালত ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে ন্যায়বিচার ব্যাহত হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে সাব-কমিটি গঠন ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও বিভিন্ন সাপোর্ট সেন্টারকে আরও জবাবদিহিমূলক ও ভুক্তভোগীবান্ধব করতে হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে নারী আইনজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির এডভোকেট সালমা আলী (প্রাক্তন সভাপতি) ও বক্তাগণ বলেন, নারী ও শিশুর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, বিচার বিভাগ ও সিভিল সোসাইটির সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে BNWLA/BJMAS তার ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।