নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৭৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গভীর রাতে সেনাবাহিনী ও র্যাবের পোশাক পরে ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)।
রোববার বাহিনীটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৫ জন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য। বাকি তিনজন বেসামরিক নাগরিক। এ ঘটনায় র্যাবের কেউ ছিল কি না তা তদন্ত চলছে। তবে গ্রেফতারকৃতদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
র্যাব আরো জানায়, অভিযানে নগদ ৭ লাখ টাকা, কিছু স্বর্ণালংকার এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে, সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডাকাতির এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে ১১ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মোহাম্মদপুরে গভীর রাতে সেনাবাহিনী ও র্যাবের পোশাক পরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি বাসা থেকে ৮৫ লাখ টাকা ও ৫০ ভরি স্বর্ণ ও কয়েকটি মোবাইল ফোন লুটপাট করে নিয়ে যায় তারা।
জানা যায়, পাঁচতলা এই বাড়ির মালিক পাঁচ ব্যক্তি। তারা আপন পাঁচ ভাই, একই বাড়িতেই থাকেন। তাদের মধ্যে এক ভাইয়ের নাম আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বাড়িটির তিন তলার একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকেন। ডাকাতরা তার ফ্ল্যাটেই ডাকাতি করেন। আবু বক্কর সিদ্দিক ব্যবসায়ী। তার ইট, কয়লা ও জমির ব্যবসা রয়েছে।
আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, শনিবার ভোররাত সাড় ৩টার দিকে সেনা ও র্যাবের পোশাক পরে ২০-২৫ জন একটি গাড়িতে করে বাড়ির সামনে আসেন। গেটের সামনে এসে গেট ধাক্কাধাক্কি করেন। বাসার কেয়ারটেকার ভয়ে গেট খুলে দেন। এরপর কেয়ারটেকারকে নিয়ে তারা আমার ফ্ল্যাটে আসেন। দরজা খুলে দেখি তাদের সবার শরীরে র্যাব ও সেনা সদস্যের পোশাক। তারা আমার বাসায় অস্ত্র আছে বলে তল্লাশি করতে চায়। আমি বলি, আমার লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দিয়ে দিয়েছি। কোনো অস্ত্র নেই। এরপর তারা ফ্ল্যাটের সব কক্ষের আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে খুলে ফেলে, যা পায় তাই তারা বস্তায় ভরে। এভাবে তারা সব আলমারি খুলে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, চক্রের একজনের কাছে একটি অস্ত্র ছিল। বাকিদের হাতে কিছু ছিল না। তবে তাদের চুল ছোট ছোট ছিল। তাদের দেখে মনে হয়নি তারা র্যাব বা সেনাবাহিনীর সদস্য নয়। তবে তারা যখন আলমারি ভেঙে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিতে থাকে তখন একটু সন্দেহ হয়। তবে ভয়ে কিছু বলতে পারিনি।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী ইফতেখার বলেন, ডাকাতরা এমনভাবে এসেছে, তাদের দেখলে মনে হবে না তারা ভুয়া। চক্রের কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।