নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | ২৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত জাভান হোটেল অ্যান্ড বারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-দক্ষিণ বিভাগের একটি দল আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে এ অভিযান চালানো হয়।
গত বুধবার একটি ভিডিও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবি ডিসি পূর্ব অশোক কুমার।
দীর্ঘ ১.৩০ ঘন্টার অভিযান শেষে গাজীপুর মহানগর দক্ষিণ গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ হারিস জানান, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি।
তবে তদন্ত ও তল্লাশির পর জাবান হোটেলে ইয়াবা বা অসামাজিক কার্যকলাপের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় রাত ১১.৩০ মিনিটে ডিবি পুলিশ জাবান হোটেলে অভিযান শেষে একটি মাইক্রোবাসে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ বলেন, উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে রাত ১২.৫৫ মিনিটে আভিযান শেষ হওয়ার প্রায় ১ ঘন্টা ২৫ মিনিট পরে দেখা যায় একটি পত্রিকার প্রতিবেদক লাইভে এসে প্রচার করছেন , জাভান হোটেলে ডিবির অভিযান চলছে।
প্রতিবেদক facebook লাইভে থাকা অবস্থায় হোটেলের সামনে ভিডিও করতে প্রতিবেদককে বাধা দিতে দেখা যায়। প্রতিবেদক নিজের পরিচয় না দিয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন বলে বাধা দেয়া হয় বলে জানান জাভান হোটেলের সিকিউরিটিতে থাকা কর্মকর্তারা।
জাভান হোটেলের ধারণ করা সিসিটিভির ভিডিওতে আর ও দেয়া যায় প্রতিবেদক লাইভ করার সময়ে কোন রকম টিভি ক্যামেরা বা বুম ব্যবহার করেন নি। সিকিউরিটিরা হোটেলের সামনে ভিডিও করতে নিষেধ করলে তিনি তার সাথে থাকা একজনকে নিয়ে মোটরবাইকে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
কিন্তু তার কিছুক্ষণ পর আরো কয়েকজন সাংবাদিক জাভান হোটেলের সামনে এসে পুনরায় লাইভে আসেন। তারা তাদের facebook page এ লাইভ প্রচার করেন। লাইভে জাভান হোটেলের মালিকানা নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেন বলে অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সায়মন খান। তিনি ঢাকার একাধিক হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট মালিক। তাছাড়া তার facebook profile এ গিয়ে দেখা যায় তিনি BNP এর রাজনিতির সাথে সম্পৃক্ত। ৫ই অগাস্টের আগে শেখ বাদল হোটেলটি পরিচালনা করলে ও বতর্মানে জাভান হোটেলের সিইও এবং পরিচালক মোঃ সায়মন খান।
তিনি জানান শেখ বাদল ভবন মালিক, আমি এ প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিচালক। শেখ বাদল এ হোটেলের পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত নন। আমি বৈধ ভাবে এ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি।
তিনি আরও জানান,বেসরকারী একটি চ্যানেল এর পরিচালক মেহেদী হাসান মিঠু আমার ভবন মালিক শেখ বাদলের আত্মীয়। একসময় তিনি নিয়মিত হোটেল এবং বারে আসা যাওয়া করতেন। কিছুদিন যাবৎ তিনি অবৈধভাবে হোটেলটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে চাচ্ছেন। এতে আমি আপত্তি জানালে তিনি নিজ চ্যানেলের কর্মকর্তাদের দিয়ে আমার হোটেলের নামে মিথ্যা অভিযোগ এবং নিউজ করাচ্ছেন। সায়মন খান তার what’sApp history দেখিয়ে বলেন , মিঠু সাহেব বুধবার এবং শুক্রবার আমাকে কল করে হোটেল বন্ধ করে দিবেন বলে হুমকি দেন। এ বিষয়ে তিনি থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোটেলটি টঙ্গীর অন্যতম পরিচিত হোটেল এন্ড বার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাবান হোটেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।