নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৯১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
শিক্ষাজীবন শেষে চাকরি নিয়ে হতাশা কাজ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। চাকরির এমন প্রতিযোগীতাপূর্ণ বাজারে তাই গ্র্যাজুয়েটরা এখন জীবিকার তাদিগে খুঁজছে বিকল্প রাস্তা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ চীনেও বাড়ছে সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের গতানুগতিক ধারার বাইরে যাওয়ার প্রবণতা।
সাধারণভাবে একজন শিক্ষিত নাগরিকের প্রত্যাশা থাকে দেশের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ চাকরিটি তার হবে। কিন্তু চীন এমন একটি দেশ যেখানে একজন স্কুল দফতরিরও পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি আছে। একজন ক্লিনার যিনি কিনা পরিবেশগত নীতি প্রণয়নের যোগ্যতা রাখেন; ডেলিভারি ড্রাইভার যার কিনা দর্শনে অধ্যয়নে ডিগ্রি রয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে চীনের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী কেবল সরকারি চাকরির পেছনে ছুটে মূল্যবান সময় নষ্ট করেন না।
কোনো দেশের অর্থনীতির চাকাকে সক্রিয় রাখতে এসব ঘটনা অবাক করার মতো কিছু নয়, বরং খুঁজলেই তাদের মতো হাজারো উদাহরণের সন্ধান মিলবে।
সান ঝান
২৫ বছর বয়সী সদ্য গ্র্যাজুয়েট। তিনি ফিন্যান্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নানজিং-এর একটি হট পট রেস্তোরাঁয় ওয়েটার হিসেবে তার কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন৷
নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করেও এই পেশা বেছে নেয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চীনে থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ স্নাতক বের হচ্ছে কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত চাকরি নেই। এতে বাড়তে পারে বেকারত্বের সংখ্যা, যা একটি দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। রিয়েল এস্টেট এবং ম্যানুফ্যাকচারিংসহ প্রধান খাতগুলোতে অর্থনৈতিক সংগ্রাম এবং স্থবির হয়ে পড়তে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, তারুণ্যের এমন সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে, যুব বেকারত্ব বিগত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বর্তমানে এর হার ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে যা ছিল ২০ শতাংশ।
তবে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে এমন পেশা বাছাইয়ে সামাজিকভাবে বেশ বেগ পেতে হয়েছে সাহসী এই তরুণদের। পরিবার ও বন্ধুদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে। যখন সান ঝান একজন ওয়েটার হয়েছিলেন, তখন তার বাবা-মা বিরক্ত হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
এই তরুণের বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হবেন। তিনি রেস্তোরাঁর ব্যবসা শিখতেই মূলত ওয়েটার হিসেবে কাজ করছেন। একদিন তিনি বড় ব্যবসায়ী হবেন। তিনি মনে করেন যদি তিনি একটি সফল ব্যবসা পরিচালনা করেন, তবে তার পরিবারের সমালোচকদের তাদের সুর পরিবর্তন করতে হবে।
হংকং শহরের সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ঝাং জুন স্থানীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, চীনের মূল ভূখণ্ডে কাজের পরিস্থিতি সত্যিই চ্যালেঞ্জিং, তাই আমি মনে করি অনেক তরুণকে তাদের প্রত্যাশাগুলোকে সত্যিকার অর্থে সংশোধন করতে হবে।
উ ড্যান
বর্তমানে সাংহাইয়ের একটি স্পোর্টস ইনজুরি ম্যাসেজ ক্লিনিকে একজন প্রশিক্ষণার্থী ২৯ বছর বয়সী এই যুবক। এমনিকেই চাকরির বাজার কঠিন। তার উপর অনেক প্রযুক্তি কোম্পানিসহ চীনের অনেক কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করেছেন। তাই হতাশা থেকেই তার এ পেশায় আসা। তবে তিনি মনে করছেন গতানুগতিক ধারার এই পেশাগুলো তরুণদের হতাশা দূর করতে সহায়ক হবে।
ভবিষ্যতে কী হবে এমন ভাবনা থেকে চীনের অনেক বেকার গ্র্যাজুয়েটরা ফিল্ম ও টেলিভিশন শিল্পের দিকেও ঝুঁকছে। বিগ বাজেটের সিনেমাগুলোর দৃশ্য পূরণ করার জন্য অনেক সাইড ক্যারেক্টারের প্রয়োজন হয়। সেখানেও অনেকে জীবিকার সন্ধান পাচ্ছেন।