নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বাংলাদেশের রফতানিমুখী শিল্প খাতের অসামান্য প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও মৌলিক রাসায়নিকের জন্য চরম বিদেশী নির্ভরতা জাতীয় অর্থনৈতিক ঝুঁকির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বর্তমানে কেবল কেমিক্যাল আমদানিতেই বছরে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের মোট জাতীয় আমদানির প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশের সার্বিক শিল্প খাতের টেকসই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কেমিক্যাল আমদানির বিশাল ব্যয় কমিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে নীতিসংস্কারসহ চার দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।
গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এ প্রস্তাব ও সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ রব্বানী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
সেমিনারের নির্ধারিত বক্তৃতায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জিয়াউল হক, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এম মোসাদ্দেক হোসেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) পরিচালক ড. মো. আক্তার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইয়াসমিন নাহার জলি, বাংলাদেশ এগ্রো-কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব (শুল্ক, রফতানি ও বন্ড) সুরাইয়া সুলতানা, বিজিএমইএর পরিচালক শেখ এইচএম মোস্তাফিজ, বিকেএমইএর পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান এবং ডাইস্টার সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার মো. মাজাহারুল ইসলাম সুমন প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
প্রবন্ধে কেমিক্যাল বাজার কাঙ্ক্ষিত বিকাশ না হওয়ার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে—উল্টো শুল্ক কাঠামো (ইনভার্টেড ট্যারিফ), কাস্টমসে এইচএস কোড শ্রেণীবিন্যাসের জটিলতা এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউজের অপব্যবহার। পাশাপাশি বিপজ্জনক পণ্য ওয়্যারহাউজ, মানসম্মত টেস্টিং ল্যাব এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের অপর্যাপ্ততা শিল্পটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে। তবে একটি আধুনিক কেমিক্যাল অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা গেলে উৎপাদকদের খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।