নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া বলেছেন, পূর্বাচল প্রকল্পের জন্য বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের ফলে রূপগঞ্জবাসী আজ নিজেদের জমির মালিকানা হারিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শুধু পূর্বাচল নয়, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন, কায়েতপাড়া ও দাউদপুর ইউনিয়নকেও ঢাকার আওতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দিপু ভূইয়া বলেন, ‘১৯৯৫ সালে যখন পূর্বাচল প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তখন যদি স্থানীয়রা ঢাকা থেকে রূপগঞ্জ পর্যন্ত বড় সড়ক নির্মাণের দাবি তুলতেন, তাহলে রূপগঞ্জবাসীর এত বিপুল পরিমাণ জমি হারাতে হতো না।’
তিনি বলেন, ‘পূর্বাচল প্রকল্পের জন্য অনেকের শত শত বিঘা, আবার কারও আরো বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তখন জমির মালিকদের একটি করে প্লট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু আজও অনেকেই সেই প্লট পাননি।’
সংসদ সদস্য বলেন, ‘সেই সময়ের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত এখন রূপগঞ্জবাসীকে দিতে হচ্ছে। আজ রূপগঞ্জবাসীর নিজের জমিই আর রূপগঞ্জবাসীর হাতে নেই। বিভিন্ন মানুষ সেই জমির মালিক হয়ে গেছে।
’
তিনি আরো বলেন, ‘তখন যদি ১০০ বা ৩০০ মিটার প্রশস্ত সড়কের জন্য জমি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হতো, তাহলে এত বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়ত না। কিন্তু সেই ক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার না করে রূপগঞ্জবাসীর বিস্তীর্ণ জমি অধিগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।’
পূর্বাচলকে ঢাকার অধীনে নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে দিপু ভূইয়া বলেন, ‘তারা জানে, এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় আন্দোলন আমি করব। এখন রূপগঞ্জ ইউনিয়ন, দাউদপুর ইউনিয়ন এবং কায়েতপাড়া ইউনিয়নকেও ঢাকার আওতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে আন্দোলনের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে রূপগঞ্জের প্রতিটি ঘর থেকে মানুষকে রাস্তায় নামতে হবে।
আমি বেঁচে থাকতে রূপগঞ্জের মানুষকে উচ্ছেদ করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।’
তিনি বলেন, ‘রূপগঞ্জবাসী আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তাদের কল্যাণে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও আমি প্রস্তুত। আমাকে যত হুমকিই দেওয়া হোক না কেন, আমার সবচেয়ে বড় শক্তি রূপগঞ্জবাসী।’
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে দিপু ভূইয়া বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি, কারও অধিকার নষ্ট করিনি। তাই আমি নির্ভয়ে চলাফেরা করি। আমি জানি, রূপগঞ্জবাসী সবসময় আমার সঙ্গে আছে।’