নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
দেশের রাসায়নিক খাতের অভ্যন্তরীণ বাজার ৬০০ কোটি ডলারের বেশি হলেও উচ্চ আমদানি নির্ভরতা, জ্বালানি সংকট ও লজিস্টিক অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতায় গতি পাচ্ছে না এ শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত। এ কারণে রপ্তানি খাতের সুরক্ষায় রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
শনিবার (২৫ জুলাই) মতিঝিলে ডিসিসিআই মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রাসায়নিক নির্ভর রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ আহ্বান জানান তিনি।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া ও ওষুধ শিল্পের বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অনেকাংশেই রাসায়নিক পণ্যের মসৃণ সাপ্লাইচেইনের ওপর নির্ভর করে।
তবে কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্ক, অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এবং লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত করছে। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে সক্ষমতা বাড়াতে রোডম্যাপ প্রণয়ন এখন আর ঐচ্ছিক বিষয় নয়, এটি একটি কৌশলগত বাধ্যবাধকতা।
’
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ বলেন, ‘শিল্প নীতিমালা সংস্কার কার্যক্রম চলছে। রাসায়নিক খাতের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রয়োজন, না কি বিদ্যমান নীতিতেই নতুন অধ্যায় যুক্ত করা হবে—সে বিষয়ে ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত জানালে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
’
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সদস্য আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান বিসিএসআইআরের গবেষণায় উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও পণ্য ব্যবহারের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি ৫ হাজার কোটি টাকার হালকা প্রকৌশল শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদ দেন।
মূল প্রবন্ধে এস আর ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ রাব্বানী জানান, দেশের রাসায়নিক পণ্যের বাজার প্রতিবছর ১০-১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ৬২০ কোটি ডলারের রাসায়নিক কাঁচামাল আমদানি করেছে।
অনুষ্ঠানে বিকেএমইএর পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, বিজিএমইএর পরিচালক শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ ও বিএপিআইর ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এম. মোসাদ্দেক হোসেন কেমিক্যাল ইকো-সিস্টেম তৈরি এবং তৈরি পোশাকের মতো নীতি সহায়তার জোর দাবি জানান।