Advertise with us

মাতৃদুগ্ধ বিষয়ে চৌদ্দশ বছর আগেই যে নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মাতৃদুগ্ধ বিষয়ে চৌদ্দশ বছর আগেই যে নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম

প্রতি বছর ১ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস এবং এ দিন থেকেই শুরু হয় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ। নবজাতকের সুস্থ জীবন, সুষম বিকাশ এবং মাতৃদুগ্ধের অপরিসীম গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা গড়ে তুলতেই এ আয়োজন।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান আজ যে সত্যকে তুলে ধরছে, ইসলাম সেই নির্দেশনা দিয়েছে চৌদ্দশ বছর আগে। পবিত্র কোরআন শুধু মাতৃদুগ্ধ পান করানোর প্রতি উৎসাহই দেয়নি, বরং এটিকে শিশুর অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং মায়ের মর্যাদা, ত্যাগ ও কষ্টকে সর্বোচ্চ সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে—এটি তাদের জন্য, যারা দুধপানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়…।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৩৩)

এই আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম শিশুর জন্য পূর্ণ দুই বছর মাতৃদুগ্ধ পানকে সর্বোত্তম সময় হিসেবে নির্দেশ করেছে।
একই সঙ্গে সন্তানের ভরণ-পোষণ এবং দুগ্ধদানকারী মায়ের যথাযথ দেখভালের দায়িত্ব পিতার ওপর অর্পণ করা হয়েছে, যাতে মা নিশ্চিন্তে তার সন্তানের প্রতিপালনে মনোনিবেশ করতে পারেন। এটি ইসলামের পারিবারিক ভারসাম্য ও মানবিক সৌন্দর্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করেছে এবং তাকে দুধ ছাড়াতে লেগেছে দুই বছর।
’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৪)

একই বক্তব্য সুরা আহকাফের ১৫ নম্বর আয়াতেও এসেছে। এসব আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একজন মা সন্তানের জন্য কত অকল্পনীয় ত্যাগ স্বীকার করেন। গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান, রাতের পর রাত জেগে থাকা এবং নিজের শরীরের পুষ্টি দিয়ে সন্তানকে লালন-পালন করা—এসবের প্রতিদান কোনো সন্তানই পুরোপুরি দিতে সক্ষম নয়। তাইতো রাসুলুল্লাহ (সা.) মায়ের মর্যাদার কথা বারবার বলেছেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার উত্তম আচরণের সবচেয়ে বেশি হকদার কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা।
’ লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ তৃতীয়বারও একই উত্তর দিলেন, ‘তোমার মা।’ এরপর চতুর্থবার বললেন, ‘তারপর তোমার বাবা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৭১)

আজকের ব্যস্ত জীবন, কর্মব্যস্ততা কিংবা সামাজিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় মাতৃদুগ্ধ পান করানোর বিষয়টি অবহেলিত হয়। অথচ একটি শিশুর সুস্থ ভবিষ্যৎ, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং একটি স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি হলো মাতৃদুগ্ধ। তাই পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবারই দায়িত্ব মায়েদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে তারা নিশ্চিন্তে তাদের সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারেন।

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস আমাদের সামনে ইসলামের এক চিরন্তন জীবনব্যবস্থার সৌন্দর্যও তুলে ধরে। যে ধর্ম চৌদ্দশ বছর আগে শিশুর অধিকার, মায়ের মর্যাদা এবং মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব নির্ধারণ করে দিয়েছে, সেই শিক্ষাকে আমাদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত এ দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য। আসুন, আমরা মহান আল্লাহর নির্দেশনা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষাকে ধারণ করে প্রতিটি শিশুর জন্য মাতৃদুগ্ধের অধিকার নিশ্চিত করি, প্রতিটি মায়ের প্রতি যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা প্রদর্শন করি এবং একটি সুস্থ, সবল ও আদর্শ প্রজন্ম গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন আজকের অগ্রবাণী-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া