নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বিশ্বকাপ ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্ব ও মালিকানার একাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ফিফা। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন শুভবুদ্ধির উদয়কে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়েছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা।
তবে ভবিষ্যতে বিশ্ব ফুটবলের ভাগ্য নির্ধারণী বা বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, এমন যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার কড়া তাগিদও দিয়েছেন এএফসি প্রধান।
ফিফার মূল পরিকল্পনা ছিল একটি পৃথক বাণিজ্যিক ইউনিট গঠন করে তার প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি পুঁজি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করা। এই মেগা ডিল থেকে প্রায় ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের লোভনীয় লক্ষ্য ধরেছিল জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থা। উদ্দেশ্য ছিল, এই নতুন ইউনিটটির হাতেই তুলে দেওয়া হবে বিশ্বকাপসহ ফিফার বাঘা বাঘা প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও পরিচালনাসংক্রান্ত মূল চাবিকাঠি।
কিন্তু গত মঙ্গলবার প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব ফুটবলে তৈরি হয় তোলপাড়। এএফসিসহ একাধিক মহাদেশীয় কনফেডারেশন ফিফার এই একলা চলো নীতির বিরুদ্ধে একযোগে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, আন্তর্জাতিক ফুটবলের এমন এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গেই ন্যূনতম কোনো আলোচনা করার প্রয়োজন বোধ করেনি ফিফা!
চারদিক থেকে ধেয়ে আসা ক্ষোভ ও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সুর নরম করতে বাধ্য হন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি জানান, ফুটবলাঙ্গনের সংশ্লিষ্ট সবার প্রতিক্রিয়া ও মতামত ‘মনোযোগ দিয়ে শোনার পরই’ বিতর্কিত পরিকল্পনাটি থেকে পুরোপুরি সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা।
বিশ্বকাপ বিক্রির এই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর এএফসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক চিঠিতে শেখ সালমান লেখেন, ‘বিশ্ব ফুটবলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে যেন তা সময়মতো, শতভাগ স্বচ্ছ ও কার্যকর উপায়ে বিভিন্ন কনফেডারেশন, ফিফা কাউন্সিল, সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এবং অন্যান্য অংশীদারদের টেবিলে তোলা হয় এবং ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়।’
এএফসি সভাপতি আরও যুক্ত করেন, ‘বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ তৈরি হওয়া উচিত যৌথ সংলাপ, সুস্থ আলোচনা এবং ফুটবলের বিদ্যমান কাঠামোর প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রেখে।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সদস্য দেশগুলোকে পাঠানো পৃথক এক চিঠিতে ফিফার এই হুটকারী প্রস্তাব উত্থাপনের প্রক্রিয়াকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে কড়া সমালোচনা করেছিলেন শেখ সালমান।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরভিত্তিক এএফসি ফিফার অধীনস্থ ৬টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের অন্যতম বৃহৎ শক্তি। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলের জাতীয় দল এবং ক্লাব ফুটবলের সার্বিক পরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করে আসছে এই সংস্থাটি।