শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

এশিয়াজুড়ে ফের ঘনীভূত হচ্ছে জ্বালানি তেল সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

এশিয়াজুড়ে ফের ঘনীভূত হচ্ছে জ্বালানি তেল সংকট

মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে নতুন অবরোধে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ আবারো ব্যাহত হচ্ছে।

এতে ছয় মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে পড়তে যাচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডের মতো প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোর জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সম্প্রতি লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি জ্বালানি তেলের ট্যাংকার লক্ষ্য করে এ হামলা চালায় এবং অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মজুদ দ্রুত কমে আসায় এশিয়ার দেশগুলো বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে এশিয়ার বাজারগুলোতে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। সেই ধাক্কা সামলাতে সৌদি আরব বিকল্প পথ অবলম্বন করে। দেশটি পূর্ব উপকূলের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পশ্চিম উপকূলের লোহিত সাগরসংলগ্ন ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল স্থানান্তর শুরু করে। ভারতসহ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো শীর্ষ ক্রেতাদের জন্য লোহিত সাগরের রুটটিই প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সম্প্রতি ওই অঞ্চলে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ও অবকাঠামোতে হুথি হামলার পর বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার দেশগুলো এখন তাদের মজুদের একদম শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে। অনেক দেশের কাছেই জ্বালানির উদ্বৃত্ত কোনো মজুদ অবশিষ্ট নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া জ্বালানি খাতে কয়েক কোটি ডলার ভর্তুকি দিচ্ছে। তবে এসব আর্থিক পদক্ষেপ সরকারের বাজেটের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়াসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে হুহু করে।

হুথিদের হামলা এড়াতে বিকল্প সমুদ্রপথ ব্যবহার করাও বেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। একটি বিকল্প পথ হলো, সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগর ঘুরে আফ্রিকার দিকে যাওয়া। তবে ধারণক্ষমতার কারণে পূর্ণ লোড নিয়ে বড় জ্বালানি তেলের ট্যাংকারগুলো সুয়েজ খাল অতিক্রম করতে পারে না। ফলে মিসরীয় পাইপলাইনে অর্ধেক তেল খালাস করে বাকি পথ পাড়ি দিতে হয়, যা পরিবহন খরচ বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিলে যাতায়াতের সময় দ্বিগুণেরও বেশি লেগে যায়। এতে জাহাজ ভাড়া, জ্বালানি খরচ ও বীমা প্রিমিয়াম আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে।

সংকট মোকাবেলায় এর আগে শ্রীলংকায় চার কর্মদিবস চালু করা হয়েছিল। ভিয়েতনামে কর্মীদের ঘরে বসে কাজের পরামর্শ দেয়া হয়। তবে নতুন করে বিশ্ববাজার অস্থির হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও ভারত তাদের কৌশলগত তেলের মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে বিকল্প হিসেবে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে এশিয়ার অনেক শোধনাগার।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট বন্ধ হয়ে যাওয়া এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তার চরম ভঙ্গুরতা ফুটিয়ে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের দিকে নজর না দিলে এ সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তি সম্ভব নয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন আজকের অগ্রবাণী-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া