Advertise with us

বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল ফিফা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল ফিফা

ফুটবলে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নতুন কাঠামো প্রস্তাব করায় উয়েফার ৫৫ সদস্যের পাশাপাশি কনকাকাফভুক্ত ৪১টি দেশের ফুটবল সংস্থাও আপত্তি জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, প্রস্তাবটি ফুটবল বিক্রি করার কোনো উদ্যোগ নয়; বরং সদস্য দেশগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এটি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে ফিফা জানায়, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) গঠনের প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন কনফেডারেশনের মতামত তারা শুনেছে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের কারণে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে চায়। সংস্থাটি উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরামর্শ প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, এফএফই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো ২১১টি সদস্য সংস্থাকে নিজ নিজ দেশে ফুটবলের বাণিজ্যিক সুযোগের ওপর অর্থবহ মালিকানা দেওয়া। তবে এ ক্ষেত্রে ফিফার নীতি, শাসনব্যবস্থা কিংবা ফুটবলের মৌলিক কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হবে না।

বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না। এটি এমন কোনো বিষয় নয়, যা ফিফা কখনো বিবেচনা করবে।

ফিফা আরও জানায়, কোনো একক প্রতিষ্ঠান বিশ্বের ২১১টি সদস্য সংস্থার পক্ষে কথা বলতে পারে না। প্রতিটি সদস্য সংস্থারই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করার এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মতামত দেওয়ার অধিকার রয়েছে। এটিই ফিফার গণতান্ত্রিক নীতির অংশ।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এফএফই ফিফার বাণিজ্যিক ও বিভিন্ন আয়োজন সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে এই সহযোগী প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে ফিফার মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। এর মাধ্যমে সৃষ্ট বাণিজ্যিক মূল্য সদস্য সংস্থাগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে, যাতে তারা নিজ নিজ দেশে ফুটবলের উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারে।

ফিফা জানিয়েছে, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চার বছরে প্রতিটি সদস্য সংস্থা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড ডেভেলপমেন্ট’ কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি মার্কিন ডলার পাবে। কোনো সংস্থা এফএফই প্রস্তাবকে সমর্থন করুক বা না করুক, এই অর্থায়ন অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়া ‘ফিফা ফাস্ট ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম’-এর আওতায় সদস্য সংস্থাগুলোর জন্য অতিরিক্ত ২ কোটি মার্কিন ডলারের এককালীন উন্নয়ন তহবিলেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। ফিফার দাবি, এই অর্থায়ন হবে বাহ্যিক বিনিয়োগের মাধ্যমে, তবে এতে ফিফার নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালন কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হবে না।

ফিফা স্পষ্ট করেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য সংস্থার সমর্থন ছাড়া এফএফই বাস্তবায়ন করা হবে না। সে ক্ষেত্রে ফিফার বর্তমান বাণিজ্যিক কার্যক্রম আগের মতোই চলবে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক এখনো আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। সদস্য সংস্থাগুলো চাইলে পুরো প্রস্তাব, এর কোনো অংশ বা সংশোধিত রূপ নিয়ে মতামত দিতে পারবে। ফিফার মতে, এফএফই প্রস্তাবের মূল ভিত্তি হলো উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক সুযোগের বিস্তৃত মালিকানা এবং সব সদস্য সংস্থার জন্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন আজকের অগ্রবাণী-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া