নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রত্যাশা শুধু সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; মানুষের প্রত্যাশা ছিল রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও পরিবর্তন হবে। দীর্ঘদিনের সংঘাত, বিভাজন এবং প্রতিপক্ষকে শত্রু মনে করার রাজনীতির বদলে তারা চেয়েছিল সংযত, জবাবদিহিমূলক ও জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি।
এ রকম প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিছু ছবি ও ভিডিও স্বাভাবিকভাবেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কোথাও তিনি নিজেই ব্যাগ বহন করছেন, বৃষ্টিতে নিজের ছাতা নিজেই ধরছেন, ট্রাফিক আইন মেনে অপেক্ষা করছেন, কোথাও আবার শিশুদের সঙ্গে ছবি তুলছেন কিংবা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশছেন।
অনেকের কাছে এগুলো শুধু একজন নেতার ব্যক্তিগত আচরণ নয়; বরং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতীকী বার্তা। কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, জনপরিসরে শুধু একজন নেতার এমন আচরণ কি একটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলে দিতে পারে?
রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি মানুষকেও বদলে দেয়?
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল আলমন্ড ও সিডনি ভারবা তাঁদের দ্য সিভিক কালচার বইয়ে দেখিয়েছেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনকেই নয়; মানুষের চিন্তা, সহনশীলতা এবং ভিন্নমত গ্রহণের মানসিকতাকেও প্রভাবিত করে।
একটি সমাজ যদি দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত, বিভাজন এবং প্রতিপক্ষকে শত্রু মনে করার রাজনীতিতে অভ্যস্ত হয়, তার প্রভাব মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়ে। তখন মানুষ যুক্তির চেয়ে দল বা পক্ষকে বেশি গুরুত্ব দেয়। মতের পার্থক্য সহজেই ব্যক্তিগত বিরোধে পরিণত হয়। ভিন্নমত শোনার ধৈর্যও কমে যায়।