নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বাংলাদেশে হাম প্রতিরোধে বহু বছর ধরে টিকাদান কর্মসূচি চালু রয়েছে। প্রতি চার বছর পরপর ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকা দেয়া হয়। পাশাপাশি রুটিন টিকাদান কর্মসূচিতেও নয় মাস বয়স থেকে শিশুদের হামের টিকা দেয়া হয়। তবে ২০২০-২১ সালের কভিড পরিস্থিতির কারণে এসব ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন হয়নি বলে আমার ব্যক্তিগত ধারণা। এরপর ২০২৩-২৪ সালের ক্যাম্পেইনও বাস্তবায়ন হয়নি। সে সময় স্বাস্থ্য খাতের অর্থায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। অপারেশনাল প্ল্যানের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায় এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু সেই অর্থ সময়মতো না আসায় প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন কেনা সম্ভব হয়নি। এর ফলে এক বছরের নিচে এবং এক থেকে দুই বছরের মধ্যে থাকা বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। পাশাপাশি মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি না থাকলে শিশুও পর্যাপ্ত সুরক্ষা পায় না। দেশে প্রথম হামজনিত মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় চলতি বছরের মার্চে। হামের কারণে যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের অনেকেই মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছিল। অপুষ্টি ও সংক্রমণ একে অপরকে আরো জটিল করে তোলে। তাই এ দুটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। মার্চের মাঝামাঝি প্রথম মৃত্যু শনাক্ত হওয়ার পর ৬ এপ্রিলের মধ্যেই সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সংগ্রহ, জনবল মোতায়েন এবং দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। প্রথমে ৩০টি উপজেলায় কর্মসূচি শুরু হয়। পরে চারটি বড় শহরে এবং পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য এলাকায় তা সম্প্রসারণ করা হয়। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে। মাত্র চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে প্রায় শতভাগ কাভারেজের কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।