শনিবার ২৭শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১১ মার্চ ২০২৩ | প্রিন্ট

ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’

দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শনিবার (১১ মার্চ)তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। তবে ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকরই রয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই-বায়ুর মান সূচক) স্কোর ছিল ১৯১। এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ, যার স্কোর ২১৫।

একিউআই স্কোরে দ্বিতীয় স্থানে আছে পাকিস্তানের লাহোর, স্কোর ১৯৪। ১৯১ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি, যার স্কোর ১৮৯।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান একিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল ঢাকার বায়ূ। এর মধ্যে কয়েকদিন ছিল চরম অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে।

প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই স্কোর একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটুকু নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দিয়ে থাকে। দুষিত শহরে বসবাসকারীদের তাদের কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে কি না, তা জানায় একিউআই।

একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে। যেমন বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ এবং ওজন (ও৩)।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে দুই দশমিক পাঁচ মাইক্রোমিটার ব্যাসের বস্তুকণার পরিমাণ (পিপিএম) যদি শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকে, তাহলে ওই বাতাসকে বায়ু মানের সূচকে (একিউআই) ‘ভালো’ বলা যায়। এ মাত্রা ৫১-১০০ হলে বাতাসকে ‘মধ্যম’ মানের ও ১০১-১৫০ হলে ‘বিপদসীমায়’ আছে বলে ধরে নেয়া হয়। আর পিপিএম ১৫১-২০০ হলে বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১-৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ও ৩০১-৫০০ হলে ‘বিপজ্জনক’ বলা হয়।

এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। এ পরিমাণে বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে জানায়, ঢাকা চারদিক থেকে দূষণ সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কারণ হিসেবে তারা জানায়, জনবহুল শহর হওয়ায় এখানে অতিরিক্ত গাড়ি, মোটরবাইক এবং ট্রাকের ব্যাপক ব্যবহারের বায়ুদূষণ হচ্ছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতেও বাষু দূষিত হচ্ছে।

এ ছাড়াও শহরের শিল্পকারখানার দিকও রয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান দূষণের মাত্রায় অবদান রাখছে। ইটভাটার মতো কারখানা বা উৎপাদন স্থানগুলো দূষণের ব্যাপক মাত্রার জন্য দায়ী। অর্থনৈতিক উচ্ছ্বাস এবং পরবর্তীতে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে, ঢাকার ভাটাগুলো প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ইট উৎপাদন করছে। প্রায়শই বিদ্যুতের জন্য অনিয়ন্ত্রিত জ্বালানির উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। (যেমন কয়লা, কাঠ এবং অন্যান্য দাহ্য পদার্থ পোড়ানো)। বায়ুমণ্ডলে অত্যধিক পরিমাণে বিষাক্ত ধোঁয়াই এ শহরের বাষুকে দূষিত করছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১১ মার্চ ২০২৩

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]